Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারুইপুরের কল্যাণপুরে কত ভাড়াটিয়া, তথ্য নেই পঞ্চায়েত ও থানার হাতে

বারুইপুরের কল্যাণপুরে কত ভাড়াটিয়া, তথ্য নেই পঞ্চায়েত ও থানার হাতে
  • ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বারুইপুর: বারুইপুরের কল্যাণপুর পঞ্চায়েতের খোদারবাজার এলাকায় এক হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের চারতলা বাড়ির একতলায় ভাড়া থাকত মাদক কারবারের মাথা মোকলেস উর শেখ। সে নিজেকে আলু-পেঁয়াজের ব্যবসায়ী বলে এলাকায় পরিচয় দিয়েছিল। আদতে মোকলেসের বাড়ি উস্থির নেতড়ায়। রাজ্য পুলিসের এসটিএফের অফিসাররা বারুইপুরের ওই বাড়িতে হানা দিয়ে মঙ্গলবার পাকড়াও করেছিলেন মোকলেস ও তার শ্যালকের শাশুড়ি সেরিনা বিবিকে। এই সেরিনাও মাদক কারবারের অন্যতম কিংপিন। এই মাদক কারবারিরা ওই বাড়িতে দু’বছর ধরে থাকলেও স্থানীয় পঞ্চায়েত কিংবা বারুইপুর থানায় তাদের সম্পর্কে কোনও তথ্যই নেই। এমনকী, কল্যাণপুর এলাকায় কতজন ভাড়াটিয়া বসবাস করেন, সেই তথ্যও নেই পঞ্চায়েতের হাতে। দিনের পর দিন এই সুযোগকে কাজে লাগাচ্ছে মাদক কারবারি থেকে দুষ্কৃতীরা। বাড়ির মালিকও টাকার লোভে তথ্য যাচাই না করেই বাড়ি ভাড়া দিচ্ছেন বিভিন্ন ব্যক্তিকে।
Advertisement
কল্যাণপুর পঞ্চায়েতের প্রধান অনামিকা নস্কর বলেন, বাড়ির মালিকদের আগেও বলা হয়েছিল, ভাড়াটিয়া থাকলে সেই তথ্য জানাতে হবে। কিন্তু কেউই সেই কাজ করেন না। এবার ফের তাঁদের সতর্ক করার কাজ শুরু হবে। বারুইপুর পুলিস জেলার এক আধিকারিক বলেন, এ বিষয়ে পঞ্চায়েতকে ফের ডেকে সতর্ক করা হবে।
হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের বাড়িটি চারতলা। এরমধ্যে একতলা থেকে তিনতলা পর্যন্ত রয়েছে ভাড়াটিয়ারা। প্রতিবেশীদের কথায়, ডাক্তার এক বছরের ভাড়ার টাকা একসঙ্গে নিয়ে নেন। একেকজন ভাড়াটিয়ার থেকে তিনি পেয়েছেন ২৫ হাজার টাকা। একইভাবে অনেকে মাস প্রতি চার-পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া বসিয়েছেন বাড়িতে। কিন্তু ভাড়াটিয়াদের সঠিক পরিচয় জানেন না বাড়ির মালিকরা। এর সুযোগে এলাকায় অসাধু কাজকর্ম বেড়ে চলেছে। যা স্থানীয় থানা ও পঞ্চায়েতের নজরে আসছে না। সূত্রের খবর, এই পঞ্চায়েত এলাকায় অনেকেই ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকেন। কোন বাড়িতে কতজন ভাড়াটিয়া রয়েছেন, তা স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যও জানেন না। 
এক বাসিন্দা বলেন, এক বছর আগে পুলিসের পক্ষ থেকে বাড়ির মালিকদের বলা হয়েছিল, ভাড়াটিয়াদের সম্পর্কে থানায় নথিপত্র জমা দিতে হবে। কিন্তু শাসকদলের স্থানীয় নেতাদের আপত্তিতে সেই কাজ ভেস্তে যায়। ফলে মোকলেস উর শেখের মতো আর কেউ এই এলাকায় বাস করছে কি না, তা জানতে পারছে না পুলিস।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ