


ওয়াশিংটন: দশদিন অতিক্রান্ত। কিন্তু ইরান বনাম আমেরিকা-ইজরায়েল সংঘাত শেষ হওয়ার নাম নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্টের তর্জন-গর্জনই সার, তেহরানকে বাগে আনা এখনও দূরঅস্ত। দুই ‘বন্ধু’ দেশের যৌথ হামলার পাল্লা দিয়ে জবাব দিচ্ছে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড। যদিও গোটা বিশ্বের সামনে ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েই চলেছেন, ইরানের ভাগ্য নির্ধারণ এবার তিনিই করবেন। এমন এক নেতাকে বেছে নেবেন, যার জন্য খামেনেইয়ের দেশে শান্তি ফিরবে। কিন্তু যুদ্ধ থামানোর কোনো অভিপ্রায় আমেরিকা বা ইজরায়েলের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না। আর ইরানও সেই আগ্রাসনের জবাব সেয়ানে সেয়ানে দিচ্ছে। তাই ট্রাম্পের হাত ধরেই ইরানে শান্তি ফেরাকে অলীক কল্পনা ছাড়া আর কিছুই মনে করছেন না আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।
ইউরেনিয়ামের লোভে যে ট্রাম্প ইরান দখলে মরিয়া তা এখন বিশ্ববাসী বুঝে গিয়েছে। তাঁর সেই স্বপ্ন যে পূরণ হওয়া সম্ভব নয়, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে আমেরিকারই প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক রিপোর্ট। সেই রিপোর্টে ইরানি শিক্ষাবিদ ও ব্রুকিং ইনস্টিটিউটের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজান মেলোনি বলেছেন, যতরকমভাবেই ইরানকে চাপে ফেলার চেষ্টা হোক না কেন, সে দেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সামাজিক পরিকাঠামো এটা নিশ্চিত করে দিচ্ছে যে দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধ চললেও তেহরানের প্রশাসনকে দখল করা কখনোই সম্ভব হবে না। এর পিছনে বেশ কয়েকটি বিষয়কে তুলে ধরে তিনি ব্যাখ্যা করেছেন—প্রথমত, ইরান প্রশাসন যেভাবে দেশকে পরিচালনা করে, তাতে শীর্ষস্থানীয় নেতৃত্বের মৃত্যু হলেও অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক পরিকাঠামো সুষ্ঠুভাবে এগিয়ে নিয়ে যেতে কোনো সমস্যা হবে না। দ্বিতীয়ত, সরকারবিরোধী গোষ্ঠী বা বিদ্রোহীরা এতটাও শক্তিশালী নয়, যে তারা ইরানের ক্ষমতা দখল করতে সক্ষম হবে। বিদেশি শক্তি তাদের উসকানি দিয়ে দেশে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করলেও বিশালাকার ইরানের নানা প্রান্তে খামেনেই তথা ধর্মীয় ভাবাবেগকে প্রাধান্য দেওয়ার মতো জনসংখ্যা বেশি। সে ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ইরানবাসীকে প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।
আরব দুনিয়ার যে দেশেই আমেরিকা স্থায়ী সরকারের পতন ঘটিয়েছে, সেখানে সাধারণ নাগরিকের স্বার্থরক্ষার বুলি আউড়েছে। ইরাক, লিবিয়া, মিশর সব দেশে এটাই ছিল মার্কিন কৌশল। তবে ইরানের ক্ষেত্রে যে তা সম্ভব নয়, এমনটাই মনে করছেন সুজানের মতো বিশেষজ্ঞ মহলের আরও অনেকে।