নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিএড ডিগ্রি থাকা কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এবার ছ’মাসের ‘সার্টিফিকেট’ বা ‘ব্রিজ’ কোর্স চালু করছে কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রক বিবৃতি দিয়ে এসংক্রান্ত ঘোষণা করেছে। কোর্স চালু করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী প্রহ্লাদ জোশী জানিয়েছেন, সারা দেশে প্রাথমিক শিক্ষার মান আরও উন্নত করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ। এই কোর্স করলে প্রাথমিক শিক্ষকদের আরও মানোন্নয়ন ঘটবে। যদিও শিক্ষামন্ত্রকের এহেন ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কিছু বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। বিএড ডিগ্রি থাকা কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য এই সার্টিফিকেট কোর্স বাধ্যতামূলক কি না, তা স্পষ্ট নয়। পাশাপাশি তা বিনামূল্যে করা যাবে, নাকি কোর্স ফি রয়েছে, সেই ব্যাপারেও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত দেশের মোট ৭৬ হাজার ৭৩১ জন বিএড ডিগ্রি থাকা কর্মরত প্রাথমিক শিক্ষক এই কোর্সে নাম নথিভুক্ত করেছেন। নাম নথিভুক্তির নিরিখে শীর্ষে থাকা তিনটি রাজ্য হল—উত্তরপ্রদেশ (৩৫ হাজার ৪৪০), মধ্যপ্রদেশ (১১ হাজার ৩৭৩) এবং বিহার (৮ হাজার ২৯০)। চতুর্থ স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (৬ হাজার ৯৪৮)। মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওপেন স্কুলিং’য়ের (এনআইওএস) মাধ্যমে ছ’মাসের এই সার্টিফিকেট কোর্স করানো হবে। ‘ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার এডুকেশন’ (এনসিটিই)-এর নির্দেশিকা মেনেই সংশ্লিষ্ট কোর্স তৈরি করা হয়েছে।
এদিন শিক্ষামন্ত্রকের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট প্রাথমিক শিক্ষকদের নিয়ে একটি রায় দিয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল, কর্মরত যেসব প্রাথমিক শিক্ষকের ডিএলএড ডিগ্রি নেই, তাঁদের জন্য এনসিটিইকে একটি কোর্স তৈরি করতে হবে। সেইমতো ২০১৮ সালের ২৮ জুন থেকে ২০২৩ সালের ১১ আগস্টের মধ্যে চাকরি পাওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য একটি ব্রিজ কোর্স তৈরি হয়েছিল।
প্রথম শ্রেণি থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ক্লাস নেওয়া ওইসব প্রাথমিক শিক্ষকের বিএড ডিগ্রি ছিল। শিক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, বর্তমানে যে সার্টিফিকেট কোর্সের কথা বলা হচ্ছে, সেখানে সেইসব প্রাথমিক শিক্ষকরাই অংশ নেবেন, যাঁদের ২০১৮ সালের ২৮ জুনের এনসিটিইর গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুসারে নিয়োগ বৈধ (প্রোটেক্টেড) বলে ঘোষণা হয়েছে। এই কোর্সটি পড়ানো হবে হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষায়। তবে থিয়োরি পরীক্ষা দেওয়া যাবে এইটথ শিডিউলের আওতাভুক্ত ২২টি ভাষার যে কোনোটিতে। https://bridge.nios.ac.in-সাইটের মাধ্যমে শুধুমাত্র অনলাইন নথিভুক্তি হবে।