কাপড়ের জবার মালা গেঁথে সংসারে আলো ফোটান বধূরা
  • ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: অভাবের সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরোয়। বাড়ির পুরুষরা পরিযায়ী শ্রমিক হিসাবে কাজ করেন। তাঁদের স্ত্রীরা মালা গাঁথেন। দীপাবলিতে কাপড়ের তৈরি জবার মালা গেঁথে ঘরে আলো জ্বালান কেতুগ্রামের শাঁখাই গ্রামের বহু মহিলা। বাড়িতে বসেই পরিবেশ বান্ধব কাপড়ের তৈরি লাল জবা তৈরি করেন তাঁরা। কাপড়ের তৈরি জবার মালার চাহিদা বাড়ছে। মুখে হাসি ফুটেছে কেতুগ্রামের মহিলা মালা শিল্পীদের মুখে। নদী পেরিয়ে বিভিন্ন প্রান্তে মহিলাদের হাতের তৈরি  মালা পাড়ি দিচ্ছে দীপাবলিতে। 

Advertisement

কেতুগ্রাম-২ ব্লকের শাঁখাই গ্রাম ভাগীরথীর ধারে। যোগাযোগ ব্যবস্থা বলতে ভরসা সেই নৌকা। অভাবের সংসারে একটু বাড়তি অর্থের জোগান দিতে প্রতি বছরের মত এবারও দীপাবলিতে মহিলারা কাপড়ের জবার মালা গাঁথছেন। বিভিন্ন পুজোয় নানারকম মালা তৈরি করেই আয় করেন এই পরিবারগুলি। রংবেরঙের কাপড়, পাট, জরি, রেশম সুতো, শিট পেপার প্রভৃতি দিয়েই তৈরি হয় মালা। রেশম সূতো কাঠের যন্ত্রে পাক খাইয়ে মালা তৈরি হয়। আবার কাপড় কেটে তৈরি করা জবা ফুল হাতে করে গেঁথেও মালা তৈরি করেন শিল্পীরা। এইসব মালা কাটোয়া মহকুমার বিভিন্ন বাজারের পাশাপাশি অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো হয়। দীপাবলিতে লাল জবার রেডিমেড মালার চাহিদা থাকে ব্যাপক। 
কেতুগ্রামের শাঁখাই বর্মন পাড়াতে প্রায় পঞ্চাশটি পরিবারের বধূরা সংসারের কাজ সামলে মালা গাঁথেন। তাতে সংসারে দুটো বাড়তি আয় হয়। শাঁখাই বর্মন পাড়ার বাসিন্দা জবা বর্মন, মিনতি বর্মন, সরস্বতী বর্মন বলেন, অবসর সময়ে কাপড় কেটে প্রথমে ফুল তৈরি করি। তারপর সুতোয় ওই কাপড়ের তৈরি জবা গেঁথে মালা তৈরি করা হয়। আমরা কাটোয়া থেকেই কাঁচামাল সংগ্রহ করি। চুমকি রায়, হেনা রায় বলেন, এবার  কালীপুজোর জন্য বিভিন্ন এলাকা থেকে বরাত এসেছে। স্বামীরা খেটে যা অর্থ নিয়ে আসেন, সেখান থাকে আমাদের কিছু চাইতে হয় না। বিভিন্ন সাইজের মালা পাইকারি দরে দশকর্মা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয়। একডজন কাপড়ের মালার দাম প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। সারাদিনে ২৫ থেকে ৫০ ডজন পর্যন্ত মালা তৈরি হয়। সরকারি সাহায্য সেভাবে কোনোদিন পাইনি। ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের জন্য যে ঋণ দেওয়া হয় সেটুকু পেলেও শিল্পটাকে টিকিয়ে রাখা যেত। কিন্তু তা এখনও পাইনি। 
গ্রামের অন্য মালা শিল্পীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা এই শিল্পের সঙ্গে জড়িয়ে আছি। মালা তৈরি করেই আমাদের সংসার চলে। মূলত বিশ্বকর্মা, দুর্গাপুজো ও কালীপুজোতে মালার চাহিদা থাকে বেশি। তবে প্লাস্টিক বন্ধ হওয়ায় সবাই পরিবেশ বান্ধব মালার খোঁজ করছেন। তাই আমাদের কাপড়ের মালার চাহিদা বেড়েছে। তবে কাঁচামালের দাম ব্যাপক হারে বেড়েছে। 
দীপাবলি আলোর উৎসব। জগতের সব অন্ধকার দূর হয় আলোতে। তাই আঁধারে থাকা দুঃস্থ পরিবারগুলি মালা গেঁথেই প্রদীপের আলো জ্বালাতে চান দীপাবলিতে। -নিজস্ব চিত্র