Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পিছনে ট্রেনের হর্ন শুনেই ঝাঁপ, রেলব্রিজ থেকে পড়ে মৃত্যু বধূর

রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরছিলেন দম্পতি। আচমকা পিছনে ট্রেনের হর্ন! তা শুনতে পেয়েই লাইনের পাশে ঝাঁপ দিয়েছিলেন স্ত্রী ও স্বামী।

পিছনে ট্রেনের হর্ন শুনেই ঝাঁপ, রেলব্রিজ থেকে পড়ে মৃত্যু বধূর
  • ২২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: রেললাইন ধরে হাঁটতে হাঁটতে বাড়ি ফিরছিলেন দম্পতি। আচমকা পিছনে ট্রেনের হর্ন! তা শুনতে পেয়েই লাইনের পাশে ঝাঁপ দিয়েছিলেন স্ত্রী ও স্বামী। স্বামী প্রাণে রক্ষা পেলেও রেলব্রিজের ফাঁক দিয়ে গলে নীচে পড়ে মৃত্যু হল বধূর। শুক্রবার সকালে মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটেছে লেকটাউন থানার অন্তর্গত পালপাড়া এলাকায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম সুষমা প্রসাদ (৪০)। লাইনের পাশে পাথরে পড়ে জখম হয়েছেন স্বামী রাকেশ প্রসাদও। তাঁদের বাড়ি লেকটাউনের দক্ষিণদাঁড়ির ঋষি অরবিন্দ কলোনিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সময় বাঁচাতেই তাঁরা রেললাইন ধরে হাঁটছিলেন। তার জেরেই দুর্ঘটনা। 

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সুষমা প্রসাদের বাপের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার টাকিতে। রাকেশ রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। এদিন সকালে টাকি থেকেই তাঁরা দু’জন দক্ষিণদাঁড়িতে ফিরছিলেন। উল্টোডাঙায় বিধাননগর রোড স্টেশনে নামেন। তারপর ৫ নম্বর রেলব্রিজ ধরে বাড়ির দিকে হাঁটছিলেন। স্থানীয়দেব দাবি, বাস বা অটো ধরে বাড়ি ফিরলে সব মিলিয়ে প্রায় ৪০-৪৫ মিনিট লাগবে। কিন্তু, রেললাইন ধরে হাঁটলে মাত্র ১০-১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছনো যায়। তাই সময় বাঁচানোর জন্য তাঁরা রেললাইন দিয়ে হাঁটছিলেন। 
পরিবার ও স্থানীয়রা পুলিসকে জানিয়েছেন, তাঁরা দু’জন যখন রেলব্রিজের উপর দিয়ে হাঁটছিলেন, তখন একটি ট্রেন পিছন থেকে হর্ন দেয়। ট্রেনটি অন্য লাইনে আসছিল। তাঁরা যে লাইনে হাঁটছিল, সেই লাইন দিয়ে আসছিল না। কিন্তু, পিছনে ট্রেনের হর্ন শুনেই সুষমাদেবী ঝাঁপ দিয়ে সরতে যান। সেখানে রেলব্রিজের অংশ ফাঁকা ছিল। তিনি নীচের রাস্তায় পড়ে গুরুতর জখম হন। পড়ার সময় ব্রিজে সজোরে ঠোকা খেয়ে আঘাতও পান। রাকেশবাবুও ঝাঁপ দিয়ে সরে যান। তবে, তিনি নীচে পড়েননি। রেললাইনের পাশেই পড়েন। তাঁর চোখের সামনেই স্ত্রী নীচে পড়ে যান। দ্রুত উদ্ধার করে সুষমা প্রসাদকে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ