নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: প্রেমিকের সঙ্গে একছাদের তলায় থাকতে চাই। তাতে বাধা দিচ্ছেন বাবা-মা ও স্বামী। হস্তক্ষেপ করুক পুলিশ। এমনই অদ্ভুত আরজি নিয়ে নন্দীগ্রাম থানার দ্বারস্থ হলেন দুই সন্তানের জননী। ১২ বছরের দাম্পত্য জীবন কাটিয়ে ফেলেছেন। দুই মেয়ে রয়েছে। ফেসবুকে এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হওয়ার পর তাঁকে ছাড়া আর কাউকে ভালো লাগছে না ওই বধূর। স্বামী-সংসার ছেড়ে ওই যুবকের সঙ্গেই থাকতে চান তিনি। বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন নিজের বাবা-মা এবং স্বামী। তাঁদের উপর ক্ষুব্ধ ও বিরক্ত হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধেই ১৬ আগস্ট নন্দীগ্রাম থানায় এফআইআর করেছেন তিনি। নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের সাউদখালি চরের বাসিন্দা ওই বধূর পাগলপারা প্রেম দেখে তাজ্জব পুলিশ। তা হলেও তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতে বাবা, মা ও স্বামীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২০ (২), ১১৫ (২), ৩৫১ (২) এবং ৩ (৫) ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। তদন্তের দায়িত্ব পড়েছে নন্দীগ্রাম থানার সাব ইন্সপেক্টর অর্পণ গড়াইয়ের উপর। জানা গিয়েছে, ১২ বছর আগে ডায়মন্ডহারবারের বিশ্বজিৎ হালদারের সঙ্গে ওই বধূর বিয়ে হয়। দম্পতির দু’টি মেয়ে রয়েছে। সাংসারিক জীবনে কোনও অশান্তি ছিল না। সম্প্রতি ফেসবুকে ওই যুবতীর সঙ্গে নন্দীগ্রাম-১ ব্লকের গোকুলনগরের এক যুবকের আলাপ হয়। প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমিকের ভালোবাসায় তাঁর এখন পাগল হওয়ার মতো অবস্থা। চার মাস আগে তিনি গোকুলনগরে ওই যুবকের কাছে চলে আসেন। তারপর একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। গত ১৫ আগস্ট ডায়মন্ডহারবার থেকে বিশ্বজিৎ স্ত্রীর খোঁজে গোকুলনগরে হাজির হন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় স্ত্রীকে ধরে জোরজবরদস্তি করে সাউদখালি চরে শ্বশুরবাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে শ্বশুর ও শাশুড়ির সহযোগিতায় ওই যুবক স্ত্রীকে ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসার পরামর্শ দেন। বাড়িতে স্বামী, দুই সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে প্রেমিককে ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ তৈরি করা হয়।



