Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

ব্রহ্মপুত্রের তীরে গঙ্গা-পদ্মার গান ধরলেন দুই সমর্থক

ব্রহ্মপুত্রের তীরে গঙ্গা-পদ্মার গান ধরলেন দুই সমর্থক
  • ১২ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, গুয়াহাটি: দু’জনেই পরম বন্ধু। বাড়ি শিলিগুড়িতে। ছোটবেলা থেকে একসঙ্গে পড়াশুনা, খেলাধূলা। তবে বড় ম্যাচ এলেই সপ্তাহখানেক আগে থেকেই কথাবার্তা কার্যত বন্ধ। সম্রাট কট্টর ইস্ট বেঙ্গল সমর্থক। আর মোহন বাগানের ভক্ত অয়ন। প্রিয় দলের হয়ে গলা ফাটাতে শনিবার দু’জনেই হাজির ইন্দিরা গান্ধী স্টেডিয়ামে। মূল গেটের বাইরে উভয়েই গায়ে চাপিয়ে নেন প্রিয় লাল-হলুদ ও সবুজ-মেরুন জার্সি।
Advertisement
২০১৬ সালে প্রথমবার মাঠে বসে ডার্বির স্বাদ পাওয়া সম্রাট-অয়নের। সেবার আই লিগের লড়াইয়ে কাঞ্চনজঙ্ঘা স্টেডিয়ামে ২-১ গোলে জিতেছিল ইস্ট বেঙ্গল। সেই শুরু। তারপর সুযোগ পেলেই ডার্বি দেখতে দুই বন্ধু একসঙ্গে পাড়ি দেন কলকাতায়। এবারও টিকিট কাটা ছিল। শেষ মুহূর্তে ভেন্যু পরিবর্তন হওয়ায় কিছুটা সুবিধাই হয়েছে তাঁদের। অয়নের কথায়, ‘আইএসএলে এখনও আমাদের হারাতে পারেনি ইস্ট বেঙ্গল। বন্ধুর জন্য মাঝেমাঝে কষ্টও হয়। কী আর করা যাবে!’ কথাটা বলেই সবুজ-মেরুন জার্সি গায়ে চাপিয়ে নিলেন তিনি। তবে বন্ধুকে প্র্যাকটিস জার্সি পরতে দেখে সম্রাট কিছুটা টিটকিরির সুরেই বলে ওঠেন, ‘হারের ভয়েই কি ম্যাচের জার্সি পরলি না?’ কথা শেষ হওয়ার আগেই অয়নের জবাব, ‘তোদের জন্য প্র্যাকটিস জার্সিই যথেষ্ট। গত কয়েক বছরের ফল মনে আছে তো? কলকাতা হোক বা গুয়াহাটি, চিরকাল রেলায় আছে, থাকবে মোহন বাগান।’ এরপর হাসতে হাসতেই একে অপরকে জড়িয়ে ধরলেন তাঁরা। বললেন, দুঃখ কষ্ট যতই হোক, বন্ধু আমরা ফিরব একসঙ্গেই। গাইব, ‘দুঃখসুখের বুকের মাঝে, একই যন্ত্রণা/ গঙ্গা আমার মা, পদ্মা আমার মা।’
কলকাতা থেকে বেশ কিছু হকারও হাজির হয়েছেন গুয়াহাটিতে। দমদমের বাসিন্দা অসিত দাস দীর্ঘ ২০ বছর ধরে জার্সি বিক্রি করছেন। এদিন স্টেডিয়ামের বাইরে বসে তিনি বলেন, ‘ডার্বির কথা মাথায় রেখে বেশি সংখ্যায় দু’দলের জার্সি তুলেছি। শেষ মুহূর্তে ম্যাচ সরে যাওয়ায় চিন্তায় পড়ে যাই। এখানে অনেকেই লাল-হলুদ আর সবুজ-মেরুন জার্সি কিনেছেন। আশা করছি, সংখ্যাটা আরও বাড়বে।’ বলতে বলতেই দু’জন মোহন বাগান সমর্থক জার্সি চাইলেন। মুখের হাসি চওড়া হল অসিতের।
সম্পর্কিত সংবাদ