ভোপাল: ব্রাহ্মণ দম্পতিরা চার সন্তানের জন্ম দিলেই এক লক্ষ টাকা নগদ পুরস্কার! বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশের সরকারি বোর্ডের প্রধানের এমন ঘোষণা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ছড়াল। পরশুরাম কল্যাণ বোর্ডের প্রধান পণ্ডিত বিষ্ণু রাজোরিয়া ইন্দোরের এক অনুষ্ঠানে এই ঘোষণা করেন। পদাধিকার বলে বিষ্ণু মধ্যপ্রদেশে ক্যাবিনেট মন্ত্রীর মর্যাদা পান। ওই অনুষ্ঠানে রাজোরিয়া দাবি করেন, ‘দেশে ‘ধর্মদ্রোহী’র সংখ্যা বাড়ছে কারণ আমরা পরিবারের দিকে নজর দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।’ তিনি আশ্বাস দেন, অন্য কেউ বোর্ড প্রধান হলেও এই পুরস্কার চালু থাকবে। রাজোরিয়ার এমন বক্তব্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। ‘ধর্মদ্রোহী’ প্রসঙ্গ তুলে তিনি আদতে সংখ্যালঘুদের টার্গেট করতে চাইছেন বলে সরব হয় বিরোধী দলগুলিও। চাপে পড়ে রাজোরিয়া তাঁর বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে জানান, এই ঘোষণা তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগ। কোনও সরকারি উদ্যোগ নয়। তিনি শুধু নিজের মনের কথা বলেছেন। কারণ ব্রাহ্মণ সম্প্রদায়ই একাধিক সন্তানের পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের দায়িত্ব নিতে পারবেন। যদিও সরকারি বোর্ডের প্রধান হয়ে প্রকাশ্য সভায় ব্যক্তিগত মন্তব্য করা যায় কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।
Advertisement
ওই সভায় রাজোরিয়া বলেন, ‘তরুণ প্রজন্মের কাছে আমার অনেক আশা। তাই ভালো করে শুনে নিন, আগামী প্রজন্মকে রক্ষার দায়িত্ব আপনাদেরই নিতে হবে। তরুণ প্রজন্ম জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর মাত্র এক সন্তানের জন্ম দিচ্ছে, যা খুবই সমস্যার বিষয়। তাই অন্তত চার সন্তানের জন্ম দিন।’ এরপরই চার সন্তানের জন্মের বিনিময়ে এক লক্ষ টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন রাজোরিয়া। তাঁর আরও বক্তব্য, ‘তরুণ প্রজন্ম আমাকে মাঝেমাঝেই বলে যে এখন পড়াশোনার খরচ বেড়ে গিয়েছে। কিন্তু যে কোনওভাবেই এসব সামলে নিন, কিন্তু সন্তানের জন্ম দেওয়া বন্ধ করবেন না। নাহলে ধর্মদ্রোহীরা দেশ দখল করে নেবে।’
কংগ্রেস নেতা মুকেশ নায়েক বলেন, ‘বক্তব্য নিয়ে আরও একবার ভাবা উচিত রাজোরিয়ার। উনি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি। ওঁকে বলতে চাই, জনসংখ্যা বৃদ্ধি আজ সারা বিশ্বের সমস্যা। সন্তানের সংখ্যা কম হলে, তাদের শিক্ষা ও অন্যান্য বিষয়গুলি নিশ্চিত করা যায়।’ মুকেশ আরও বলেন, ‘মুসলিমরা হিন্দুদের থেকে সংখ্যায় বেশি হয়ে যাবে, তারা হিন্দুদের হটিয়ে দেব এমন একটা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এগুলি সবই অবাস্তব। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই দেশ শক্তিশালী হবে। বিজেপিও রাজোরিয়ার বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে সচেষ্ট। দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিজেপি সরকার সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করবে। উনি যা বলেছেন, তা ওঁর ব্যক্তিগত মত। সরকার বিশ্বাস করে, সন্তান নিয়ে দম্পতিরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। এই নিয়ে দলের কোনও বক্তব্য নেই।
কংগ্রেস নেতা মুকেশ নায়েক বলেন, ‘বক্তব্য নিয়ে আরও একবার ভাবা উচিত রাজোরিয়ার। উনি একজন শিক্ষিত ব্যক্তি। ওঁকে বলতে চাই, জনসংখ্যা বৃদ্ধি আজ সারা বিশ্বের সমস্যা। সন্তানের সংখ্যা কম হলে, তাদের শিক্ষা ও অন্যান্য বিষয়গুলি নিশ্চিত করা যায়।’ মুকেশ আরও বলেন, ‘মুসলিমরা হিন্দুদের থেকে সংখ্যায় বেশি হয়ে যাবে, তারা হিন্দুদের হটিয়ে দেব এমন একটা আতঙ্ক তৈরি করা হচ্ছে। এগুলি সবই অবাস্তব। আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকলেই দেশ শক্তিশালী হবে। বিজেপিও রাজোরিয়ার বক্তব্য থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে সচেষ্ট। দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, বিজেপি সরকার সংবিধান ও আইন মেনে কাজ করবে। উনি যা বলেছেন, তা ওঁর ব্যক্তিগত মত। সরকার বিশ্বাস করে, সন্তান নিয়ে দম্পতিরাই সিদ্ধান্ত নেবেন। এই নিয়ে দলের কোনও বক্তব্য নেই।



