Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্রেক আপ! চিনার পার্কের বহুতল থেকে মরণঝাঁপ বি-টেক পড়ুয়ার

ব্রেক আপ! চিনার পার্কের বহুতল থেকে মরণঝাঁপ বি-টেক পড়ুয়ার
  • ১৯ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ‘প্লিজ কাম ফাস্ট। তাড়াতাড়ি চলে আয়। আমি অসুস্থ বোধ করছি। আমি এখন চার্নক হাসপাতালের কাছে রয়েছি’! আত্মহত্যার আগে নিজেই এক বন্ধুকে ফোন করেছিলেন সৌরভ। তারপর বহুতলের ছাদ থেকে সোজা নীচে মরণঝাঁপ! হাসপাতালে নিয়ে গেলেও শেষরক্ষা হয়নি। মর্মান্তিকভাবে মৃত্যু হল বি-টেক পড়ুয়ার। শনিবার রাতে বাগুইআটি থানার চিনার পার্কের এই ঘটনায় শোরগোল ছড়িয়েছে। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম সৌরভ সুমন (২২)। বিহারের ভাগলপুরে তাঁর বাড়ি। তিনি বাগুইআটির ঝাউতলার একটি বহুতলে থাকতেন। প্রাথমিক তদন্তে প্রণয়ঘটিত কারণই সামনে এসেছে। প্রেমিকার সঙ্গে ব্রেক আপ, অর্থাৎ বিচ্ছেদের জেরেই আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অনুমান।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সৌরভ আগরপাড়ার একটি বেসরকারি কলেজের বি-টেক দ্বিতীয় বর্ষের পড়ুয়া ছিলেন। তিনি থাকতেন বাগুইআটির লোকনাথ মন্দির সংলগ্ন ঝাউতলার একটি ফ্ল্যাটে। সৌরভের দুই স্কুলবন্ধু শিবম ও সৌম্য বারাসতে ভাড়া থাকেন। তাঁরা দু’জন সৌরভের থেকে জুনিয়র। শুক্রবার রাতে শিবম ও সৌম্য দু’জনে সৌরভের ঝাউতলার ফ্ল্যাটে এসেছিলেন। সারারাত তাঁরা ছিলেন। শনিবার বিকেল ৪টে নাগাদ দুই বন্ধু ঝাউতলা থেকে বারাসতে ফিরে যান। কারণ, ওইদিন তাঁদের কলেজের ফেস্ট ছিল। সৌরভ তাঁদের বলেছিলেন, জিমে যাবে।
পুলিস জানিয়েছে, রাত ৮টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সৌরভ শিবমকে ফোন করেছিলেন। তাঁকেই জানিয়েছিলেন, তাড়াতাড়ি আয়। আমি অসুস্থ বোধ করছি। এমনকী, তাঁর লোকেশনও জানিয়ে দিয়েছিলেন। চার্নক হাসপাতালের পাশে। সৌরভ নিজের ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে আত্মহত্যা করেননি। তিনি নিজের ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে চিনার পার্কের ওই বহুতলে আসেন। সেখান থেকেই ফোন করেন। তারপর ওই বহুতলের ছাদ থেকে নীচে ঝাঁপ দেন। ওই বহুতলের ভিতরের রাস্তায় পড়েন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিসকর্মীরা পৌঁছে যান। তাঁকে উদ্ধার করে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তবে, কী করে বাইরের একজন অন্য বহুতলের ছাদে উঠে পড়লেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ওই বহুতল কি তাঁর চেনা? বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রবিবার সকালে আইসি অমিতকুমার মিত্রের নেতৃত্বে বাগুইআটি থানার পুলিস চিনার পার্কের ওই বহুতলে যান। কীভাবে উপরে উঠলেন, ছাদের কোন অংশ থেকে ঝাঁপ দেন, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে পুলিস। প্রাথমিক তদন্তে এবং বন্ধুদের কাছ থেকে পুলিস জানতে পেরেছে, এক ছাত্রীর সঙ্গে সৌরভের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু, কিছুদিন আগে দু’জনের ব্রেক আপ হয়ে যায়। তা নিয়ে তিনি মানসিকভাবে অবসাদগ্রস্ত ছিলেন। তার জেরেই এই আত্মহত্যা। পুলিসের অনুমান, তিনি আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন, এটা ফোনে বলেননি। কিন্তু, বন্ধু শিবমকে যখন ফোন করেছিলেন, তখনই তিনি স্থির করে ফেলেছিলেন, আত্মহত্যা করবেন। তাই লোকেশন জানিয়ে ঝাঁপ দেন!
- এই ছাদ থেকেই মরণঝাঁপ সৌরভের।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ