নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: মালিঞ্চা গ্ৰামের গা ঘেঁষে বইছে সুবর্ণরেখা নদী। একবছর আগে নদী ছিল পাঁচশো মিটার দূরে। নদী ও গ্ৰামের মাঝে ছিল উঁচু বাঁধ। বৃহস্পতিবার সেই বাঁধের কিছুটা অংশ বসে গিয়েছে। সুবর্ণরেখা নদী ও গ্ৰামের মাঝে এতদিন বাঁধ রক্ষাকবচ ছিল। এবার সুবর্ণরেখা নদীতে জল বাড়লেই তা গ্ৰামে ঢুকে পড়বে। রাস্তায় ধস নামায় গ্ৰামজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
গোপীবল্লভপুর-২ ব্লকের কুরিয়ানা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ছোট গ্ৰাম মালিঞ্চা। নদীগর্ভে গ্ৰামের আমবাগান, পোস্ট অফিস, একটি মন্দির তলিয়ে গিয়েছে। এবার বাঁধে ধস নামায় জলস্তর বাড়লেই জনবসতি এলাকায় জল ঢুকে পড়বে। ভিটেমাটি ছাড়া হবেন গ্ৰামের বহু মানুষ। গ্ৰামের পাড় ভাঙা রুখতে সেচদপ্তর একবছর আগে শালবল্লা, বালির বস্তা দিয়ে পাড় বাঁধাই করেছিল। সেসব নদী গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। গ্ৰামের বাসিন্দারা কংক্রিটের স্থায়ী বাঁধের জন্য দীর্ঘদিন ধরে আবেদন করছেন। বিগত সরকারের আমলে সেচমন্ত্রী থেকে সেচ ও ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকরা ভাঙন পরিদর্শনে এসেছেন। রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্ৰামোন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষের বাড়ি কুলিয়ানা গ্ৰামে। মন্ত্রী হওয়ার পর গ্ৰামে এসে বাঁধের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন। গোপীবল্লভপুরের বিধায়ক রাজেশ মাহাতো মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী। গ্ৰামবাসীদের আক্ষেপ এলাকার দু'জন ভূমিপুত্র রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও গ্রামের বাঁধটি সারানো হল না। সুবর্ণরেখা নদী ভাঙন রোধ নিয়ে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ করার কথা ঘোষণা করেনি বর্তমান সরকার। গ্রামের বাসিন্দা মহাদেব দণ্ডপাট বলেন, গত বছর নদীর গ্রাসে আমার একতলা পাকা বাড়ি তলিয়ে গিয়েছে। বাঁধের উল্টোদিকে একটি ছোট মাটির বাড়িতে পরিবার নিয়ে বসবাস করছি। নদীর জল গ্ৰামে ঢুকলে পুরো গ্ৰাম তলিয়ে যাবে। অপর এক বাসিন্দা সুনীল রানা বলেন, শালবল্লা, বালির বস্তা দিয়ে পাড় বাঁধানোর চেষ্টা হয়েছিল। জলের স্রোতে সেসব টেকেনি। রাস্তার ধস দ্রুত মেরামত করা হোক। কুলিয়ানা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের এক সদস্য বলেন, গ্ৰামের লোকেরা উঁচু জায়গার রাস্তাটাকেই রাস্তা বাঁধ বলে। নদীর গ্ৰাস থেকে রাস্তাটা গ্ৰামটিকে রক্ষা করছিল। সেই রাস্তায় ধস নেমেছে। স্বাভাবিকভাবেই গ্ৰামবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। নদী ভাঙন রোধে পাড় বাঁধানো না হলে মালিঞ্চা গ্ৰামটাই নদীগর্ভে চলে যাবে। ব্লক প্রশাসনকে রাস্তার ধস নামার কথা জানানো হয়েছে। জেলা সেচদপ্তরের আধিকারিককে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও জবাব মেলেনি। ব্লক প্রশাসনের তরফেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।-নিজস্ব চিত্র