ব্রাজিল- ১ : নরওয়ে- ২
ব্রাজিল- ১ : নরওয়ে- ২
দেবজিৎ ঘোষ: দু’হাতে মুখ ঢাকা। ফুঁপিয়ে কাঁদছে নেইমার। সতীর্থরা বিধ্বস্ত। কে, কাকে সান্ত্বনা দেবে? নরওয়ে ম্যাচের পর নেইমারের চোখের জলই পেলের দেশের আয়না। বিশ্বকাপ থেকে সেলেকাওদের বিদায়। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছাতেই ব্যর্থ। ১৯৯০’এর পর এমনটা দেখা যায়নি। চনমনে সাম্বার বদলে পানসে ফুটবলও হতাশা বাড়ায়। তবে অঘটন বলা ভুল। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের ভরাডুবিতে আমি মোটেও অবাক নই।
টুর্নামেন্টের বাছাই পর্বে প্রায় সব ম্যাচেই গোল খেয়েছে ব্রাজিল। রক্ষণ যেন তিলের খাজা। সামান্য চাপেই ভেঙে যায়। ডন কার্লোও রক্ষণের হাল ফেরাতে ব্যর্থ। মার্কুইনহোসের সেরা সময় অতীত। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে গ্যাব্রিয়েলকে পকেটে পুরে গোল করেছে হালান্ড। এদিনও ৭৯ মিনিটে প্রথম গোলের ক্ষেত্রে সেই ছবি আবারও দেখা গেল। গ্যাব্রিয়েলকে টপকেই জাল কাঁপায় হালান্ড (১-০)। ১০ মিনিট বাদেই দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে প্রায় তাস খেলতে খেলতে গোল করল নরওয়ের স্ট্রাইকার (২-০)। ডানিলোরা তখন সান্ধ্য ভ্রমণে ব্যস্ত। হালান্ড এখন বিশ্বের সেরা স্ট্রাইকার। তাকে রোখার ক্ষমতা এই ব্রাজিলের নেই। দুই উইং হাফও বড্ড নড়বড়ে। অনুরাগীদের মনে এখনও রবার্তো কার্লোস ও কাফুর স্মৃতি উজ্জ্বল। তাদের ঘাটতি মেটানো এত সহজ নয়। চার ডিফেন্ডারের উপর ডিফেন্সিভ ব্লকার কাসেমিরো। তাকেও সসম্মানে বিদায় জানানো উচিত। মিডফিল্ডে প্লে-মেকার কোথায়? রোনাল্ডিনহো, কাকা দূরের কথা। কুতিনহোকে পেলেও বর্তে যেতেন ডন কার্লো। বিপক্ষের চক্রব্যূহে একা পড়লেন ভিনিসিয়াস। কিন্তু সাপোর্টিং প্লে কোথায়? মোক্ষম সময়ে চোট সমস্যাও ভোগালো টিম ব্রাজিলকে। রাফিনহা, পাকুয়েতা মাঠের বাইরে। নেইমারের ফিট হতে হতে বিশ্বকাপই শেষ। ফাইনাল পাস বাড়াবে কে? ব্রাজিলের ফুটবলার গড়ার কারখানায় স্রেফ শূন্যতা। অর্থের হাতছানিতে ইউরোপে পাড়ি দিচ্ছে নতুন প্রতিভা। স্কিল, সাম্বা ঝলকের ওখানেই ইতি। রোনাল্ডোর দেশে নম্বর নাইনের অভাব প্রকট। নরওয়ের বিরুদ্ধে অন্তত চারটি সিটার নষ্ট করেছে এনড্রিকরা। মাত্র ৩৪ শতাংশ বল পজিশন। দক্ষ বক্স স্ট্রাইকার থাকলে লিড নিতেই পারত পেলের দেশ। কুনহা উইথড্রন স্ট্রাইকারের ভূমিকায় সাবলীল। হোয়াও পেড্রোকে স্কোয়াডেই রাখেননি আনসেলোত্তি। ম্যাচ দেখতে দেখতে মনে পড়ছিল আদ্রিয়ানোর কথা। রক্ষণ তছনচ করার ক্ষমতা ছিল এই স্ট্রাইকারের। অথচ এখন স্কোরারের অভাবে ফলস নাইন খেলার কথা ভাবতে হচ্ছে আনসেলোত্তিকে। দেশের জার্সিতে শেষদিনেও পেনাল্টি থেকে জাল কাঁপিয়ে দলের মুখরক্ষা করলেন নেইমার (২-১)। ব্যর্থতা ভুলতে সময় দরকার। বিশ্বকাপ নয়, আপাতত কোপা আমেরিকা হোক ব্রাজিলের লক্ষ্য। ট্রফি এলেই আত্মবিশ্বাস বাড়বে। খোলনলচে পালটে ফেলে নতুনভাবে শুরু করুন ডন কার্লো।