সৌগত গঙ্গোপাধ্যায়: হলুদ রং আর সাম্বার তালে রাতারাতি বদলে গিয়েছে হিউস্টনের চেহারা। নেইমার, ভিনিসিয়াস লেখা জার্সি পরা মানুষের ঢল নেমেছে ডাউনটাউনের রাস্তায়, হোটেলের লবিতে। সাম্বার ঢেউ ফুটপাতে, ‘ব্রাজিল-ব্রাজিল’ ধ্বনিতে সরগরম চত্বর। হিউস্টন যেন এক টুকরো রিও ডি জেনেইরো! সেটাই হওয়ার কথা। সোমবার হিউস্টন স্টেডিয়ামে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে জাপানের বিরুদ্ধে নামছে ব্রাজিল।
পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। ব্রাজিল মানে শুধু একটা দল নয়, অহংকার। আর সেই অহংকারের সামনে তরবারি হাতে দাঁড়িয়ে সামুরাই-ব্রিগেড। নির্ভয়ে। আট মাস আগে এই জাপানই হারিয়েছিল ব্রাজিলকে। ০-২ থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে ৩-২ ব্যবধানে জয়। মোট ১৪ বারের সাক্ষাতে প্রথম সাফল্য। সেই আত্মবিশ্বাসই সম্পদ জাপানের।
গ্রুপ সি’র চ্যাম্পিয়ন হয়ে নক-আউটে পৌঁছানোয় চনমনে সেলেকাও ব্রিগেডও। তবে জাপানের বিরুদ্ধে লড়াইটা যে কঠিন, তা অজানা নয় আনসেলোত্তির। ‘নাসা’র শহরে তাই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চূড়ান্ত প্রস্তুতি সারলেন মার্কুইনহোসরা। হেড স্যার বারবার ছুটে গেলেন ভিনিসিয়াস জুনিয়রের কাছে। এই তারকা উইঙ্গারই ব্রাজিলের আক্রমণের সেরা অস্ত্র। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই জাল কাঁপিয়েছেন ভিনিসিয়াস। নামের পাশে আপাতত ৪ গোল। সঙ্গী হয়েছে পঞ্চম ব্রাজিলিয়ান হিসেবে গ্রুপের সব ম্যাচে লক্ষ্যভেদের কীর্তি। আগের চারজন জোয়ারজিনহো (১৯৭০), রোমারিও (১৯৯৪), রোনাল্ডো ও রিভাল্ডো (২০০২)। আশ্চর্যের বিষয় হল, ওই চারটি আসরেই শিরোপা জিতেছিল ব্রাজিল। এবার ভিনির হাত ধরে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির আশায় সমর্থকরা। তার উপর নেইমার ফিট। গত ম্যাচে পরিবর্ত হিসেবে খেলেছিলেন। যা ইঙ্গিত তাতে জাপানের বিরুদ্ধেও তাঁকে সুপার-সাব হিসেবে ব্যবহার করবেন আনসেলোত্তি। সামনে ফর্মে থাকা ভিনিসিয়াস। আর ক্যামিও রোলে পিছন থেকে সুতো টানছেন নেইমার— এই সমীকরণ জাপানের কাছে ত্রাস হয়ে উঠতে পারে। তারকারা তো বড়ো মঞ্চেই জ্বলে উঠতে পছন্দ করেন! ২০১৪ সালের অক্টোবরে যেমনটা হয়েছিল। প্রীতি ম্যাচে জাপানকে ৪-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিল। চারটি গোলই নেইমারের।
পক্ষান্তরে, জাপান ফুটবলের উত্থানের পিছনে আবার এক ব্রাজিলিয়ানের হাত রয়েছে। ২০০২ থেকে ২০০৬— এশীয় দলটির কোচের দায়িত্বে ছিলেন জিকো। তাঁর অধীনেই নির্ভীক ফুটবল খেলতে শেখে সামুরাই-ব্রিগেড। কৌশলগতভাবেও ধারালো হয়েছে তারা। সোমবার সেই গুরুর দেশকে মাত করার লক্ষ্যে নামবেন নাকামুরারা। ৩-৪-২-১ ফর্মেশনে মাঝমাঠ জমাট রেখে বিদ্যুৎগতির কাউন্টার অ্যাটাকই জাপানের দর্শন। ব্রাজিলের দুই সাইডব্যাক নড়বড়ে। সেই সুযোগ নিশ্চিতভাবে কাজে লাগাতে চাইবেন কোচ হাজিমে মরিয়াসু। চিন্তা একটাই, কুবো এখনও পুরোপুরি ফিট নন। তবে নাছোড়াবান্দা জাপান ছেড়ে কথা বলার দল নয়। সামুরাইরা যে আবেগের তলোয়ার চালায় না! পরিকল্পনামাফিক আঘাতই তাদের অস্ত্র। হিউস্টনে ব্রাজিলের জোগো বোনিতোর বিপরীতে নাকামুরাদের কৌশলী লড়াইয়ের জন্য মুখিয়ে অনুরাগীরা।