Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিয়ের নিমন্ত্রণে যাওয়া হল না, লাল বেনারসি পরেই মাধ্যমিক দিল ছাত্রী

বিয়ের নিমন্ত্রণে যাওয়া হল না, লাল বেনারসি পরেই মাধ্যমিক দিল ছাত্রী
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বজবজ: পরীক্ষা দিচ্ছে ছাত্রীটি। টকটকে লাল রঙের একটি বেনারসি পরেছে। হাতে মেহেন্দি। মুখে চিকচিক করছে মেক আপ। সাজগোজ দেখে মনে হচ্ছে কনেযাত্রী যাচ্ছিল, রাস্তা থেকে ধরে এনে কেউ বসিয়ে দিয়েছে মাধ্যমিক পরীক্ষাকেন্দ্রে। অদ্ভুত কাণ্ডটি দেখে সকলেরই কৌতূহল। বিষয়টি কি জানতে স্কুলে উঁকিঝুঁকি। খানিক পর জানা গেল, যা রটে তার কিছুটা সত্য বটে। বাস্তবিকই মেয়েটি যাচ্ছিল বিয়েবাড়ি নেমতন্ন খেতে। তাকে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে আসা হয়েছে পরীক্ষাকেন্দ্রে। ‘ওঠ ছুঁড়ি তোর বিয়ে’ বলে বাংলায় একটি কথা আছে। এক্ষেত্রে হল, ‘ওঠ ছুঁড়ি তোর পরীক্ষা।’  বৃহস্পতিবার সকাল। গোসাবার শম্ভুনগরে একটি ভুটভুটি (জলযান) যাচ্ছে পাশের একটি দ্বীপে। সেখানে বিয়েবাড়ি রয়েছে। ভুটভুটিতে চেপে ভোজ খেতে যাচ্ছেন নিমন্ত্রিতরা। তাতে চড়ে যাচ্ছে লাল বেনারসি পরা মেয়েটিও। হঠাৎ জলযানের চালকের কাছে এল একটি ফোন। তারপর শম্ভুনগর ঘাটে দাঁড়িয়ে পড়ল ভুটভুটি। জানা গেল, বেনারসি পরা মেয়েটি রাধানগর গৌরাঙ্গ উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার মাধ্যমিকের সিট পড়েছে শম্ভুনগর হাইস্কুলে। পরীক্ষা শুরুর কিছুক্ষণ আগেও ছাত্রীটির আসন ফাঁকা। প্রধান শিক্ষক চিন্ময় পাত্র সহপাঠীদের কাছে জানতে চাইলেন, ‘বন্ধু পরীক্ষা দিতে আসেনি কেন?’ উত্তর শুনে তাঁর চোখ কপালে। বন্ধুরা জানাল, ‘ছাত্রীটি বিয়েবাড়ি যাচ্ছে।’ এদিন মাধমিকের শেষ পরীক্ষা। তা না দিলে মেয়েটির বছর নষ্ট হবে। এই আশঙ্কায় প্রধান শিক্ষক গোসাবা থানার এএসআই বীরবল্লভ দাসকে বিষয়টি জানালেন। বীরবল্লভ খোঁজ নিয়ে জানলেন ভুটভুটিতে করে রওনা দিয়েছে ছাত্রীটি। ভুটভুটি চালকের নম্বর জোগাড় করে ফোন করলেন এএসআই। চালককে নির্দেশ, শম্ভুনগর ঘাটের কাছে ওই মাধমিক পরীক্ষার্থীকে নামিয়ে দিতে হবে। নিজেও পৌঁছলেন ঘাটে। বাইকে বসালেন পরীক্ষার্থীকে। সাড়ে এগারোটা নাগাদ পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছেও দিলেন। আশ্চর্য করার মতো একটি ঘটনা তারপর ঘটল। দেখা গেল, ছাত্রীটির কাছে তার অ্যাডমিট কার্ডটি রয়েছে। অতঃপর বেনারসি পরে আলাদা একটি ঘরে পরীক্ষা দিতে বসল মেয়েটি। মেহেন্দি পরা হাতে উত্তর লিখে সময়ের মধ্যে শেষও করল পরীক্ষা। চিন্ময়বাবু বললেন, ‘যেহেতু সময়ের কিছু পরে ও এসে পৌঁছয়, তাই ওর জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়।’কেন শেষ পরীক্ষা না দিয়ে বিয়েবাড়ি যাচ্ছিল? মেয়েটি বলেছে ‘পরীক্ষা আছে ভুলে গিয়েছিলাম।’ 
Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ