নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রবিবার রাতে হাওড়ার কদমতলায় বেপরোয়া বাইকের ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে এক প্রৌঢ়ার। মৃতার নাম অর্চনা দত্ত (৫৭)। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাইক চালক মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। আরোহীর আসনে বসেছিলেন হাওড়া পুরসভার ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূলের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল। ঘটনায় বাইক চালক অরুণাভ দত্তকে গ্রেপ্তার করেছে ব্যাঁটরা থানার পুলিস। যদিও তৃণমূল যুব সভাপতির দাবি, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে কদমতলা বাজারের কাছে নরসিংহ দত্ত রোডের উপর বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে আসছিলেন এক যুবক। পিছনে ছিলেন এক আরোহী। সেসময় কদমতলার হাওড়া ইমপ্রুভমেন্ট ট্রাস্ট আবাসনের বাসিন্দা অর্চনা দত্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে ডোমজুড়ের দিকে অন্য একজনের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। আচমকাই বাইকটি পিছন থেকে এসে তাঁকে ধাক্কা দেয়। রাস্তায় ছিটকে পড়েন ওই প্রৌঢ়া। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাওড়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকরা মৃত বলে জানিয়ে দেন। এরপরেই উত্তেজনা ছড়ায় কদমতলা এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অরুণাভ দত্ত নামের এক ব্যক্তি রীতিমতো মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালাচ্ছিলেন। পিছনের সিটেই বসেছিলেন যুব তৃণমূলের সভাপতি অভিজিৎ মণ্ডল। দুর্ঘটনার পর রাস্তায় ছিটকে পড়েন তাঁরাও। স্থানীয়রা তাঁদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ব্যাঁটরা থানার পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিস জানিয়েছে, বাইক চালক নিজেও আহত হয়েছেন। হাওড়া হাসপাতালে চিকিৎসা করানোর পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৫ নম্বর ধারায় অনিচ্ছাকৃত খুনের মামলা দায়ের করা হয়েছে। ঘটনায় ওই তৃণমূল নেতা জড়িত রয়েছেন কি না, সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
যদিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তৃণমূল যুব সভাপতি। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার খবর শুনে তিনি নিজেই পুলিসকে ফোন করেছিলেন। বাইক চালককে তিনি কোনওভাবেই চেনেন না। তৃণমূল ব্লক সভাপতি মহেন্দ্র শর্মা বলেন, ‘গোটা বিষয়টি পুলিস তদন্ত করে দেখুক। দলীয় কেউ যুক্ত থাকলেও আইন আইনের পথে চলবে।’
হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ নিয়ে সব সময় পুলিসের তরফে প্রচারের পরেও নাগরিকদের একাংশ সচেতন হচ্ছে না। মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। ধৃতের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।’
যদিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন তৃণমূল যুব সভাপতি। তাঁর দাবি, দুর্ঘটনার খবর শুনে তিনি নিজেই পুলিসকে ফোন করেছিলেন। বাইক চালককে তিনি কোনওভাবেই চেনেন না। তৃণমূল ব্লক সভাপতি মহেন্দ্র শর্মা বলেন, ‘গোটা বিষয়টি পুলিস তদন্ত করে দেখুক। দলীয় কেউ যুক্ত থাকলেও আইন আইনের পথে চলবে।’
হাওড়া সিটি পুলিসের এক কর্তা বলেন, ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ নিয়ে সব সময় পুলিসের তরফে প্রচারের পরেও নাগরিকদের একাংশ সচেতন হচ্ছে না। মদ্যপ অবস্থায় বাইক চালানোর প্রবণতা বাড়ছে। ধৃতের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা
নেওয়া হবে।’



