নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: অসমের জোরহাটের বাসিন্দা সুমিতা ঘোষকে (৫৫) খুনের কারণ কী? ধৃত দুই অভিযুক্ত ফাল্গুনী ঘোষ, তার মা আরতি ঘোষ এবং তাদের একাধিক আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্তকারীরা কার্যত নিশ্চিত, বিপুল পরিমাণ সোনা ও সম্পত্তি হাতাতেই এই হত্যাকাণ্ড। ওই সম্পত্তি ও সোনা দিতে রাজি না হওয়ায় সুমিতাদেবীর সঙ্গে মা-মেয়ের ঝামেলার সূত্রপাত। যার পরিণতি এই ঘটনা। তবে এর বাইরে আর কোনও কারণ আছে কি না, তাও তদন্তকারীরা খতিয়ে দেখছে।
Advertisement
মঙ্গলবার সকালে কুমোরটুলি ঘাটে ট্রলিব্যাগ থেকে উদ্ধার হয় সুমিতাদেবীর দেহ। মাথায় আঘাত করে খুনের পর ট্রলিব্যাগে দেহ ঢোকানোর চেষ্টা হয়। কিন্তু ব্যাগে দেহ ঢোকাতে সমস্যা হওয়ায় কেটে দেওয়া হয় মৃতদেহের দুই গোড়ালি। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, সুমিতাদেবীরা চার বোন ও এক ভাই। সুমিতাদেবী শিয়ালদহে তাঁর সেজো বোনের কাছেই থাকতেন বেশিরভাগ সময়। সেই বোনকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করাতেই খুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটতে শুরু করে। জানা যায়, অসমে তাঁদের পৈতৃক অনেক সম্পত্তি রয়েছে। আছে অনেকগুলি বাড়িও। সেরকম একটি বাড়ির অংশীদার তিনি। এছাড়া, লেকটাউন এলাকায় সুমিতরে একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। আর্থিক দিক থেকে তাঁরা যথেষ্ট সচ্ছল। লেকটাউন এলাকার একটি ব্যাঙ্কের লকারে ৭০ ভরি সোনার গয়না রয়েছে সুমিতার। সমস্ত কিছুই পৈতৃক সূত্রে পাওয়া।
সেজো বোনের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় ফাল্গুনী ও আরতিকে। তারা জানায়, আর্থিক টানাটানি থাকায় কোনওরকমে সংসার চলছিল তাদের। মাঝেমধ্যেই তাদের কাছে যেতেন পিসি-শাশুড়ি। তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও সোনার বিষয়ে তারা জানত। তারা তাঁকে অনেকবার আর্থিক সাহায্যের কথা বলেওছিল। কারণ, ভাড়া বাড়ি ছেড়ে নিজেদের বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরির চেষ্টা শুরু করেছিল তারা। সুমিতাদেবী তাদের জানান, নগদ কিছুই নেই। তখন তাঁকে গয়নাগুলি দেওয়ার জন্য বলা হয়। তাতে কোনওভাবেই রাজি হননি সুমিতাদেবী। তখন সুমিতাদেবীকে লেকটাউনের ফ্ল্যাটটি তাদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাতেও রাজি হননি পিসি-শাশুড়ি। এরপরই অশান্তি শুরু হয়ে যায় তাদের মধ্যে। সুমিতার জামাইবাবু মানিক ঘোষ বলেন, ‘ফাল্গুনীর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। তাই টাকাপয়সার প্রয়োজন হতো। তাই ওই মহিলা ও তার মেয়ে সুমিতাদেবীর কাছে টাকাপয়সা দাবি করত।’ এখান থেকেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, সোনার গয়না ও সম্পত্তি দখল করতেই মা-মেয়ে মিলে খুন করেছে সুমিতাদেবীকে। নিজস্ব চিত্র
সেজো বোনের কাছ থেকে এই তথ্য পাওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় ফাল্গুনী ও আরতিকে। তারা জানায়, আর্থিক টানাটানি থাকায় কোনওরকমে সংসার চলছিল তাদের। মাঝেমধ্যেই তাদের কাছে যেতেন পিসি-শাশুড়ি। তাঁর বিপুল সম্পত্তি ও সোনার বিষয়ে তারা জানত। তারা তাঁকে অনেকবার আর্থিক সাহায্যের কথা বলেওছিল। কারণ, ভাড়া বাড়ি ছেড়ে নিজেদের বাড়ি বা ফ্ল্যাট তৈরির চেষ্টা শুরু করেছিল তারা। সুমিতাদেবী তাদের জানান, নগদ কিছুই নেই। তখন তাঁকে গয়নাগুলি দেওয়ার জন্য বলা হয়। তাতে কোনওভাবেই রাজি হননি সুমিতাদেবী। তখন সুমিতাদেবীকে লেকটাউনের ফ্ল্যাটটি তাদের নামে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাতেও রাজি হননি পিসি-শাশুড়ি। এরপরই অশান্তি শুরু হয়ে যায় তাদের মধ্যে। সুমিতার জামাইবাবু মানিক ঘোষ বলেন, ‘ফাল্গুনীর বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে। তাই টাকাপয়সার প্রয়োজন হতো। তাই ওই মহিলা ও তার মেয়ে সুমিতাদেবীর কাছে টাকাপয়সা দাবি করত।’ এখান থেকেই তদন্তকারীরা নিশ্চিত হন, সোনার গয়না ও সম্পত্তি দখল করতেই মা-মেয়ে মিলে খুন করেছে সুমিতাদেবীকে। নিজস্ব চিত্র



