Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

‘বয়কট বিজেপি’, বিধানসভা ভোটের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল আওয়াজ তুলেছিল, ‘নো ভোট টু বিজেপি’। আর ২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দলের লাইন স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

‘বয়কট বিজেপি’, বিধানসভা ভোটের সুর বেঁধে দিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক
  • ৭ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটে তৃণমূল আওয়াজ তুলেছিল, ‘নো ভোট টু বিজেপি’। আর ২০০৬ সালে বিধানসভা নির্বাচনে দলের লাইন স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূল সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আওয়াজ তুললেন, ‘বয়কট বিজেপি’।

Advertisement

অপরিকল্পিত এসআইআর’এর প্রতিবাদে শুক্রবার থেকে ধর্মতলার মেট্রো চ্যানেলে ধরনা কর্মসূচি শুরু করেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই কর্মসূচিতেই প্রথম দিনে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝড়ো বক্তব্য আলোড়ন ফেলে দিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অভিষেকের এক ঘন্টা কুড়ি মিনিটের বক্তব্য ধর্মতলার প্রাণকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে শুনলেন হাজারে হাজারে মানুষ। স্বয়ং দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সার্টিফিকেট, ‘অভিষেক আজ খুব ভালো বক্তব্য রেখেছে’। যা শুনে ধরনা মঞ্চেই বাংলার অগ্নিকন্যার পা ছুঁয়ে প্রণাম করে আশীর্বাদ নিলেন তৃণমূল সেনাপতি। মঞ্চে বসে নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে এবং তাঁর পরামর্শ নিয়ে অভিষেক চিঠি পাঠালেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে। চূড়ান্ত এবং সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশের দাবিতে অভিষেকের এই চিঠি। আগামী ৮ তারিখ নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ রাজ্যে আসছে। সে প্রসঙ্গেই জ্ঞানেশ কুমারকে উদ্দেশ্য করে অভিষেকের বক্তব্য, বাংলায় কত রোহিঙ্গা আর বাংলাদেশি মিলল, তালিকাটা আপনি নিয়ে আসবেন! সেটা প্রকাশ করবেন। আর যদি সেই তথ্য দিতে না পারেন, তাহলে বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চেয়ে নেবেন। সেই সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোসের পদত্যাগ প্রসঙ্গে অভিষেকের কটাক্ষ, জগদীপ ধনকরের পর সি ভি আনন্দ বোস বদল হয়েছেন। আর ২৬-এর ভোট মিটলে দেখবেন নতুন রাজ্যপালও বদল হয়ে গিয়েছেন।
এদিন অভিষেকের বক্তব্যে আগাগোড়া ছিল নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের শাসক দল বিজেপিকে নিশানা। সাম্প্রতিক সময়ের প্রত্যেকটি বিষয় তুলে ধরে তথ্যভিত্তিক জবাব দিয়েছেন অভিষেক। তিনি বলেছেন, নির্বাচন কমিশন ৬০ লক্ষ বাংলার মানুষকে ভোটার তালিকায় বিবেচনাধীন রেখেছে। কিন্তু এই ৬০ লক্ষ মানুষই ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। তাহলে কেন্দ্রের মোদি সরকারটাও বিবেচনাধীন। অভিষেকের স্পষ্ট বক্তব্য, এই ৬০ লক্ষ মানুষের ভোটার তালিকায় নাম সংক্রান্ত বিষয়টি যতদিন না স্পষ্ট হবে, ততদিন তৃণমূল রাস্তায় থাকবে, আন্দোলন চলবে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যে তথ্য অভিষেকের কাছে এসেছে, তার ভিত্তিতে দাবি করেছেন, ১৭২ জন মানুষ এই এসআইআর প্রক্রিয়া চলাকালীন প্রাণ হারিয়েছেন। তাই অভিষেকের আওয়াজ, সামাজিকভাবে বিজেপিকে বয়কট করতে হবে। এমন জবাব দিতে হবে, যাতে ১৭২টা বুথেও বিজেপিকে খুঁজে পাওয়া না যায়।
দলের কর্মীদের প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শ, আগামী দু’মাস কঠিন লড়াই। এই লড়াইয়ে বাংলা থেকে বিজেপিকে বিতাড়িত করতে হবে। বিজেপিকে পঞ্চাশের নীচে নামাতে হবে।
মঞ্চেই অভিষেক তথ্য হাজির করে দেখিয়েছেন, বাংলার মানুষের জন্য ঠিক কী কী উন্নয়ন করছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু সেখানে নরেন্দ্র মোদির সরকার শুধু বঞ্চনা করে চলেছে। ৫২ লক্ষ বাড়ি দিয়েছে বলে মিথ্যা প্রচার করছে। অভিষেকের বক্তব্য, গত পাঁচ বছরে বাড়ির জন্য একটা টাকাও দেয়নি। সঙ্গে সঙ্গে মঞ্চে অভিষেককে উদ্দেশ্য করে মমতা বলেন, বাবু! আমরা ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষকে বাড়ি করে দিয়েছি। সাধারণ মানুষের কাছে অভিষেকের বার্তা, বিজেপিকে ভোট দিলে ভোট নষ্ট করবেন না। নবান্নে ফের হাওয়াই চটি। এই হাওয়াই চটির বাড়িই ২৬’এর ভোটে রাজনৈতিকভাবে বিজেপিকে খেতে হবে! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ