Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নির্মলের পানিহাটিতে টিকিট পেলেন ছেলে

তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় উত্তর শহরতলির কেন্দ্রগুলির মধ্যে বড় চমক পানিহাটি। এই কেন্দ্রের পাঁচ বারের বিধায়ক নির্মল ঘোষকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি

নির্মলের পানিহাটিতে টিকিট পেলেন ছেলে
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: তৃণমূলের প্রার্থী তালিকায় উত্তর শহরতলির কেন্দ্রগুলির মধ্যে বড় চমক পানিহাটি। এই কেন্দ্রের পাঁচ বারের বিধায়ক নির্মল ঘোষকে এবার টিকিট দেওয়া হয়নি। পরিবর্তে তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। পাশের কেন্দ্র খড়দহেও তৃণমূল এনেছে নতুন মুখ। সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিতকে প্রার্থী করা হয়েছে এখানে। এছাড়া, উত্তর দমদম, কামারহাটি, বরানগর ও দমদমে বিদায়ী বিধায়কদেরই প্রার্থী করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেলে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই উৎসাহী তৃণমূল কর্মীরা মাঠে নেমে পড়েন। মিষ্টি মুখের পাশাপাশি আবির খেলে প্রচার শুরু করে দেন তাঁরা। প্রায় সব কেন্দ্রে এদিনই প্রার্থীর নামে দেওয়াল লিখন শুরু করে দিয়েছেন শাসক দলের নেতাকর্মীরা। 

Advertisement

১৯৯৬ সালে কংগ্রসের টিকিটে পানিহাটি থেকে প্রথমবার বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন নির্মলবাবু। ২০০১ সালে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন। ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটে সিপিএম প্রার্থী গোপালকৃষ্ণ ভট্টাচার্যের কাছে তিনি হেরে যান। এরপর ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবার পানিহাটি কেন্দ্র থেকে তিনি জয়ী হয়েছেন। বিধানসভার মুখ্য সচেতক ছাড়াও দলের বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। কিন্তু এবার তাঁকে ওই কেন্দ্র থেকে সরিয়ে তাঁর ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ (ফুচি)-কে প্রার্থী করা হয়েছে। তীর্থঙ্করবাবু পানিহাটি পুরসভার জল দপ্তরের সিআইসি। তৃণমূল সূত্রের খবর, এবারও জয়ের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন নির্মলবাবু। কিন্তু দলের সমীক্ষক সংস্থা বিধায়ক হিসেবে তাঁর কাজকর্মের যে রিপোর্ট জমা দেয়, সেটি তাঁর খুব একটা পক্ষে যায়নি। তাছাড়া, সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনায় নির্মলবাবুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল তৃণমূলের অন্দরে। বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীরাও সোচ্চার হওয়ার সুযোগ পেয়েছে। তাই পরিবর্ত হিসাবে ওই কেন্দ্রে স্বচ্ছ ভাবমূর্তির তীর্থঙ্করকে প্রার্থী করার প্রস্তাব উঠে আসে। পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ নির্মলবাবু হাসি মুখেই তা মেনে নেন। এদিন নির্মলবাবু বলেন, ‘দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। দলের প্রার্থীকে বিপুল ভোটে জেতাতে পানিহাটিতে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ।’ 
এদিকে, খড়দহ বিধানসভার বিধায়ক তথা মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বালিগঞ্জে ভোটে লড়বেন এবার। তৃণমূল সূত্রে খবর, বিষয়টি অনেক আগে থেকেই ঠিক হয়ে গিয়েছিল। ফলে খড়দহে কে টিকিট পাবেন, তা নিয়ে শাসক দলের গোষ্ঠী লড়াই মাত্রাছাড়া হয়ে উঠেছিল। এই আবহে খড়দহের ভূমিপুত্র তথা সাংবাদিক দেবদীপ পুরোহিতের নাম হাওয়ায় ভাসছিল। শেষ পর্যন্ত তাতেই সিলমোহর পড়েছে দলের। দমদম লোকসভা এলাকার বাকি বিধানসভাগুলিতে বড়ো কোনো বদল হয়নি। প্রত্যাশা মতোই কামারহাটির প্রার্থী হয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক মদন মিত্র। উত্তর দমদমে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, দমদমে ব্রাত্য বসু এবারও লড়াই করছেন। বরানগরে দু’বছর আগে উপনির্বাচনে জয়ী হওয়া সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হবেন কি না, তা নিয়ে শেষ মুহূর্তে রাজনৈতিক মহলে সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু দেখা গেল, তাঁকেই ফের প্রার্থী করেছে দল। এদিন প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হতেই তিনি নৈহাটিতে বড়োমার মন্দিরে যান। পুজো দেওয়ার পর তিনি বলেন, ‘আমি বরানগরে বছর দেড়েক কাজের সুযোগ পেয়েছি। এবার পূর্ণ সময়ে বরানগরকে সাজিয়ে তোলার সুযোগ পাব।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ