নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: গল্ফগ্রিন এলাকার অরবিন্দ নগরের ফ্ল্যাটে এক তরুণ ও তরুণীর রহস্যমৃত্যুর তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য এল পুলিশের হাতে। তদন্তকারীরা জেনেছেন, মৃত তরুণী মেহুলি সান্যাল এবং রবিবার ওই ফ্ল্যাট থেকে আটক তরুণী অঞ্জলি বানগিরা— দু’জনেই ছিলেন ‘এসকর্ট গার্ল’। বিভিন্ন ক্লাব বা হোটেলে গিয়ে তাঁরা পার্টি করতেন। সেখান থেকে ‘কাস্টমার’ জোগাড় করে নিয়ে আসতেন ওই ফ্ল্যাটে। ‘কাস্টমার’-এর চাহিদা অনুযায়ী অন্যত্রও যেতেন তাঁরা। বেলাগাম জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই দুই তরুণী একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খুলেছিলেন। সেখানে আরও কয়েকজন তরুণী যুক্ত আছেন। কোথায় কবে পার্টি আছে, তা নিয়ে আলোচনা হত গ্রুপে। মৃত তরুণী মেহুলি সান্যালের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে খুনের মামলা রুজু করেছে গল্ফগ্রিন থানা। তারপর রবিবার আটক হওয়া চন্দন পাসোয়ান, তাঁর বান্ধবী অঞ্জলি বানগিরা এবং মোস্তাক আলি মোল্লা নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃত অঞ্জলিকে জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, মেহুলির সঙ্গে তাঁর একটি পার্টিতে পরিচয় হয়েছিল। দু’জনের বন্ধুত্ব তৈরি হয়। কলকাতা শহরে বিভিন্ন হোটেল, পাব সহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁরা পার্টিতে অংশ নিতেন। সোশ্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরেও যোগাযোগ হয়ে যেত। এভাবেই কোনো এক পার্টিতে তাঁদের সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল দিলশাদ, মোস্তাক ও চন্দনের। ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের মধ্যে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করে বিভিন্ন জায়গায় পার্টির খবর দেওয়া-নেওয়া করতেন। তদন্তে জানা গিয়েছে, পার্টিতে তাঁদের ‘টার্গেট’ থাকত বড়োলোক তরুণ বা যুবক। ‘এসকর্ট’-এর জন্য তাঁদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে যেতেন দিলশাদ, চন্দন ও মোস্তাক। কেউ রাজি হলে টাকাপয়সা চূড়ান্ত হওয়ার পর ‘কাস্টমার’-এর গাড়িতে চেপে তাঁর পচ্ছন্দমতো হোটেলে পৌঁছে যেতেন তরুণীরা। অনেক সময় তাঁরা অরবিন্দনগরের ওই ফ্ল্যাটে ‘কাস্টমার’ নিয়ে আসতেন। ধৃত অঞ্জলি জেরায় জানিয়েছেন, এই কারণেই গল্ফগ্রিনের ওই ফ্ল্যাটে প্রতিদিন নতুন মুখের তরুণ-তরুণীদের আনাগোনা দেখা যেত। ফ্ল্যাটে শারীরিকভাবে ঘনিষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি চলত দেদার মদ, গাঁজা, চরস ও ক্রুড হেরোইন সেবন। মাদক জোগাড়ের দায়িত্বে ছিলেন দিলশাদ। তাঁর সঙ্গে একাধিক মাদক ব্যবসায়ীর যোগাযোগ ছিল বলে জানা যাচ্ছে।



