সংবাদদাতা, খড়্গপুর: ইন্ডিয়ান বোটানিকাল গার্ডেনের গর্ব ‘ভিক্টোরিয়া লিলি’র দেখা মিলবে পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা কলেজে। বিরল প্রজাতির এই ফুল হাওড়ার শিবপুরে বোটানিক্যাল গার্ডেনের পুকুরেই দেখা যায়। বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কাছে আবেদনের ভিত্তিতে ডেবরার শহিদ ক্ষুদিরাম স্মৃতি মহাবিদ্যালয়ের(স্বশাসিত) কর্তৃপক্ষকে এই ফুলগাছের চারা দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার ডিরেক্টর কণাদ দাস সহ বিশিষ্ট বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে কলেজের নার্সারিতে এই ভিক্টোরিয়া লিলি রোপণ করা হয়। পরে তা পুকুরের স্বচ্ছ জলে চাষ করা হবে।
বিশ্বের অন্যতম বড় জলজ উদ্ভিদ ‘ভিক্টোরিয়া লিলি’। এর জন্ম আমাজন নদী অববাহিকার শান্ত জলে। ১৮৩৭সালে ব্রিটিশ উদ্ভিদবিজ্ঞানী জন লিন্ডলি এই দৈত্যাকার উদ্ভিদের ফুল ও বিশাল পাতার সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে রানি ভিক্টোরিয়ার সম্মানে এর নাম রাখেন ‘ভিক্টোরিয়া আমাজোনিকা’। পদ্ম বা শাপলা জাতীয় এই ফুলের এটাই বিজ্ঞানসম্মত নাম। এর এক-একটি গোল পাতার ব্যাস প্রায় তিনমিটার বা ১০ফুট অবধি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা জানান, এর পাতার গঠন এতটাই শক্তিশালী যে, পূর্ণবয়স্ক পাতার উপর অনায়াসেই একটি শিশু বসে বা শুয়ে থাকতে পারে।উনবিংশ শতকের শেষদিকে ইন্ডিয়ান বোটানিক্যাল গার্ডেনে এর চারা রোপণ করা হয়। বর্তমানে বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার কাছে আবেদন জানানো হলে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা সরকারি সংস্থাকে এই ফুলের চারা বা বীজ দেওয়া হয়।
ডেবরা কলেজের অধ্যক্ষা রূপা দাশগুপ্ত বলেন, আমরা অনেকদিন আগেই এই ফুলের চারা চেয়ে আবেদন জানিয়েছিলাম। ডিরেক্টর কণাদ দাসের সৌজন্যে অবশেষে তা পেলাম। এর পরিচর্যার জন্যও বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার সহযোগিতা নেব।’এর আগে বিদ্যাসাগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদ ও বনবিদ্যা বিভাগও এই ফুলের চারা পেয়েছিল বলে উদ্ভিদবিজ্ঞানী অধ্যাপক অমলকুমার মণ্ডল জানান। ডেবরা কলেজে মঙ্গলবার ভিক্টোরিয়া লিলি ছাড়াও মাখানা রোপণ করা হয়। বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতিতে মাশরুম চাষ নিয়ে কর্মশালা হয়। ড. কণাদ দাস জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ডেবরা কলেজের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।