


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাস্তার আশপাশে বিভিন্ন জায়গায় হকার-দখলদার। ব্যস্ত মোড়ে অপ্রশস্ত রাস্তা। নেই ফুটপাত, নিকাশিনালা ক্ষতিগ্রস্ত। সামান্য বৃষ্টিতে রাস্তায় জল জমে। পথচারীরা রাস্তা দিয়েই হাঁটছেন। সব মিলিয়ে ঘিঞ্জি, অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতি। গড়িয়া-বোড়াল মেইন রোডের এই পরিচিত ছবি আমূল বদলে গিয়েছে। সংস্কার শুরু হয়েছে এই রাস্তার। ইতিমধ্যে কলকাতা পুরসভার অংশে কাজ শেষ হয়েছে। কংক্রিট ব্লক দিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশস্ত রাস্তা। আজ, শনিবার সেই রাস্তা ঘুরে দেখবেন রাজ্যের মন্ত্রী তথা স্থানীয় বিধায়ক অরূপ বিশ্বাস। এই রাস্তায় আধুনিক ‘মেকানিক্যাল সুইপার’ বা স্বয়ংক্রিয় ঝাড়ু দিয়ে সাফাই অভিযান চালানো হবে বলে জানা গিয়েছে।
একদিকে কলকাতা পুরসভার আওতাধীন গড়িয়া অঞ্চল। অন্যদিকে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা। দুই পুরসভার সীমানা বরাবর চলে গিয়েছে বোড়াল মেইন রোড। এই সড়কের বিভিন্ন অংশ খানাখন্দে ভরে ছিল বহু বছর। ছিল না ফুটপাত। রাস্তা ছিল কঙ্কালসার। এলাকার বাসিন্দাদের ভোগান্তির শেষ ছিল না। অবশেষে এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার আমূল সংস্কার হয়েছে। খরচ হয়েছে প্রায় সাত কোটি টাকা।
আপাতত বোড়াল মেইন রোডের ১.০৭ কিলোমিটার অংশের সংস্কার হয়েছে। গড়িয়ায় হাটের বাজার মোড় থেকে রংকল পর্যন্ত গোটা পথে বসেছে কংক্রিটের ব্লক। সামান্য বৃষ্টিতেই এই রাস্তার বিভিন্ন অংশে জল জমে যায়। গড়িয়া মোড় থেকে বোড়াল হয়ে বনহুগলি পর্যন্ত গিয়েছে এই সড়ক। গড়িয়া থেকে বোড়াল অভিমুখে গেলে রাস্তার ডানদিকে রয়েছে কলকাতা পুরসভার ১১১ নম্বর ওয়ার্ড। বাম দিকে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার একাধিক ওয়ার্ড। আপাতত কলকাতা পুরসভার সীমানা যেখানে শেষ হচ্ছে, ততটা রাস্তাই নতুন করে তৈরি হয়েছে। পুরানো পিচ কেটে সরানো হয়েছে। রাস্তার নীচে অনেক জায়গায় বসেছে নতুন নিকাশি পাইপলাইন। ম্যানহোল, গালিপিটগুলির সংস্কার করা হচ্ছে। নতুন নতুন গালিপিট বানিয়ে ম্যানহোলের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। রাস্তার দু’ধারে ফুটপাতের বিভিন্ন অংশে বসেছে সুদৃশ্য রেলিং। ২০ ফুট চওড়া হয়েছে রাস্তা।
স্থানীয় বাসিন্দা রুদ্র ভট্টাচার্য বলেন, ‘রাস্তাটি দেখে এখন আর চেনাই যায় না। কী ছিল, আর এখন কী হয়েছে। এই সংস্কার অত্যন্ত জরুরি ছিল।’ কলকাতা পুরসভার ১১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার সন্দীপ দাস বলেন, ‘আমাদের পুরসভার আওতাভুক্ত আতাবাগান, ঊষাপল্লি, রামকৃষ্ণ নগর, আনন্দশ্রী ও কামডহরি পূর্বপাড়া এলাকার বাসিন্দাদের নিত্য যাতায়াতের পথ এটি। রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার অনেক বাসিন্দাও এই রাস্তা নিয়মিত ব্যবহার করেন। এখন সবার সুবিধা হচ্ছে। এই পথের ধারেই রয়েছে গড়িয়া শ্মশান, টিবি হাসপাতাল, বোড়াল হাইস্কুল। রাস্তার বেহাল দশার কারণে বহু মানুষকে ভুগতে হয়েছে। তাই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস উদ্যোগ নিয়ে পূর্তদপ্তরকে দিয়ে এই কাজ করিয়েছেন।’