Bartaman Logo
৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেপালে বিপর্যয়ে বাতিল বুকিং, ক্ষতির মুখে পর্যটন ব্যবসায়ীরা

হিমালয়ের কোলে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়েছে নেপাল। তারই আঁচ পড়েছে পর্যটনের ব‌্যবসায়।

নেপালে বিপর্যয়ে বাতিল বুকিং, ক্ষতির মুখে পর্যটন ব্যবসায়ীরা
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: হিমালয়ের কোলে আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে লণ্ডভণ্ড হয়েছে নেপাল। তারই আঁচ পড়েছে পর্যটনের ব‌্যবসায়। গলসি, পানাগড়, মানকর থেকে বহু পর্যটক নেপাল বেড়াতে যান। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে ভ্রমণ বাতিল করছেন পর্যটকরা। তাতেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন বাস মালিক থেকে পরিবহণ ব্যবসায়ীরা।

Advertisement

কয়েকটি পরিবহণ সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর এই এলাকা থেকে অনেকেই নেপালে বেড়াতে যান। অনেকে আবার পুরো দল নিয়ে বাসে যেতে পছন্দ করেন। সাধারণত ছয় থেকে সাতদিনের একটা পরিকল্পনা থাকে। তাতে কাঠমান্ডু, পোখরা, নাগরকোট, লুম্বিনি ইত্যাদি বেড়ানোর জায়গা দেখানো হয়। কিন্তু নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি আপাতত সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দিয়েছে। তাঁরা জানান, পহেলগামে জঙ্গিহানার পর নেপাল যাওয়ার হিড়িক বেড়েছিল। কিন্তু এখন তা বাতিল হয়ে যাচ্ছে।
বাস মালিকরা জানান, নেপাল যেতে গেলে প্রায় আড়াই হাজার টাকা দিয়ে পারমিট করাতে হয়। অগ্রিম বুকিং দেখে বাসের জন্য কম করে দুই থেকে পাঁচটি পারমিট করানো রয়েছে। এখন বুকিং বাতিল হওয়ায় সেই টাকা জলে গেল। তাছাড়া পর্যটকদের পুরো প্যাকেজ অনুযায়ী অর্থাৎ কতদিনের জন্য বাস ব্যবহার হচ্ছে সব দেখে ভাড়া ঠিক করা হয়। মোটামুটি ২ লক্ষ টাকা ভাড়া নেওয়া হয়। কিন্তু বাস বুকিং করেও বাতিল হওয়ায় কার্যত ব্যবসায়ীদের মাথায় হাত পড়েছে। তাঁরা বলছেন, প্রথমে বাংলাদেশ, তারপর গত বছর নেপালে নতুন প্রজন্মের বিক্ষোভ, এবার প্রাকৃতিক বিপর্যয়। ক্রস বর্ডার পর্যটন বারবারই ধাক্কা খাচ্ছে। বাস মালিক গৌতম গড়াই বলেন, পুজোর আগে ও পুজোর মধ্যে নেপালের জন্য বুকিং ছিল। কিন্তু নেপালের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে তাঁরা যাবেন না বলেছেন। এতে আমাদের ব্যবসার সমস্যা হল। পাশাপাশি ওই দিনগুলিতে এখন অন্য ভাড়াও পাওয়া যাবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই। বাস নিজের এলাকাতেই দাঁড়িয়ে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তাঁরা। পরিবহণ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রোহিত পাল বলেন, এখন বাসের পাশাপাশি ছোটো গাড়িতেও অনেকে নেপাল যান। কিন্তু প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর থেকে সব বন্ধ। পুজোর আগে ব্যবসাও অনেকটা থমকে গেল। পারমিট ২৮ দিন ভ্যালিড থাকে। সেই টাকাও জলে গেল।  
কাঁকসার বাসিন্দা তন্ময় চক্রবর্তী বলেন, আমাদের নেপাল যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। নেপালে ভয়াবহ পরিস্থিতি। বহু মানুষ নিখোঁজ। এই পরিস্থিতিতে কেউই আর যেতে রাজি হচ্ছেন না। সব ভেস্তে গেল। কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে বাস ব্যবসায়ী থেকে পর্যটক সকলেই।  নেপালে প্রাকৃতিক দুর্যোগের জেরে সমস্যায় পড়েছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরা।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ