Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বইমেলার ৫০, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই রূপরেখা গিল্ডের

আইফোন হোক বা অ্যানড্রয়েড। টাচস্ক্রিনের আগ্রাসনেও নতুন বইয়ের গন্ধ অকৃত্রিম। বইয়ের সঙ্গে পাঠকের পুরানো প্রেম। তাই লক্ষ লক্ষ বইপ্রেমী মানুষ এখনও ভিড় ঠেলে খুঁজে নেয় পছন্দের বই।

বইমেলার ৫০, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেই রূপরেখা গিল্ডের
  • ১৫ মে, ২০২৬ ০৪:০০

অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: আইফোন হোক বা অ্যানড্রয়েড। টাচস্ক্রিনের আগ্রাসনেও নতুন বইয়ের গন্ধ অকৃত্রিম। বইয়ের সঙ্গে পাঠকের পুরানো প্রেম। তাই লক্ষ লক্ষ বইপ্রেমী মানুষ এখনও ভিড় ঠেলে খুঁজে নেয় পছন্দের বই। ১৯৭৬ থেকে পথচলা শুরু। এবার ৫০ বছরে পদার্পণ করছে কলকাতা আন্তর্জাতিক বইমেলা। ২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে প্রতি বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই উদ্বোধনের ঘণ্টা বাজাতেন। তবে, ‘বইমেলার পঞ্চাশের আগে তিনি প্রাক্তন’। বাংলায় সরকার গঠন করেছে বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাই নতুন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেই বইমেলার যাবতীয় রূপরেখা ঠিক করতে চায় আয়োজক পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ড। পরামর্শের জন্য সময় চেয়ে চিঠিও দেওয়া হয়েছে।

Advertisement

পাবলিশার্স অ্যান্ড বুক সেলার্স গিল্ডের সভাপতি সুধাংশুশেখর দে এবং সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘নতুন মুখ্যমন্ত্রীকে গিল্ডের পক্ষ থেকে অনেক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এবার বইমেলার ৫০ বছর। সুবর্ণ জয়ন্তী। তাই আমরা মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার জন্য সময় চেয়েছি। তাঁর সঙ্গে দেখা করে পরামর্শ নেব। তারপরই বইমেলার চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।’
ভিড়ের নিরিখে দুর্গাপুজোর পর বাংলার দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎসব কলকাতা বইমেলা। ৪৮তম বইমেলায় ২৭ লক্ষ বইপ্রেমী মানুষ হাজির হয়েছিলেন। ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। গত জানুয়ারি মাসে ৪৯তম বইমেলায় হাজির হয়েছেন ৩২ লক্ষ মানুষ। বিক্রি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ কোটি টাকা! ৪৯তম বইমেলা শুরু হয়েছিল ২২ জানুয়ারি। শেষ হয়েছিল ৩ ফেব্রুয়ারি। ২৩ ও ২৬ জানুয়ারি ছাড়াও দু’টি শনিবার, দু’টি রবিবার পেয়েছিলেন পাঠক ও প্রকাশকরা। বইপ্রেমীদের দাবি, ৫০তম বইমেলায় যদি আরও কয়েকটা দিন বাড়ানো যায়, তাহলে ভালো হয়। সেই সঙ্গে ছুটির দিনও যেন থাকে।
৪৯তম বইমেলার উদ্বোধনে এসে দুর্গাঙ্গনের মতো নতুন ‘বইতীর্থ’ করার কথা ঘোষণা করেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঞ্চ থেকেই ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি। উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে বলেছিলেন, ‘৫০ বছরের উদ্বোধনে এসে যেন বইতীর্থ দেখতে পাই।’ ওই প্রকল্পের কী হবে, তা নিয়ে কৌতূহল তুঙ্গে পাঠকদের। ১৯৯৬ সালের পর থেকে গত দু’বছর বইমেলায় গরহাজির ছিল বাংলাদেশ। তবে ২০১১ সালের পর ২০২৬ সালের ৪৯তম বইমেলায় যোগ দিয়েছিল চীন। আমেরিকা না এলেও এসেছিল রাশিয়া। প্রসঙ্গত, আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক লড়াইয়ের মধ্যেই চীনের তিয়ানজিনে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এবং চীনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকও করেন প্রধানমন্ত্রী। তাই বইমেলায় চীন-রাশিয়ার উপস্থিতি ভারতের কূটনৈতিক মহলের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ। বইপ্রেমীদের কথায়, ‘সুবর্ণজয়ন্তীতে আরও দেশ আসুক কলকাতা বইমেলায়।’

সম্পর্কিত সংবাদ