Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সোদপুরে দুই দুষ্কৃতী দলের বোমাবাজি, ঝামেলা বন্ধ করতে গিয়ে আক্রান্ত ৭

সোদপুর এইচ সি দত্ত রোডে ঝামেলা শুরু হয়েছিল দুই দুষ্কৃতী দলের মধ্যে। পাড়ায় ঝামেলা শুনে বেরিয়ে এসেছিলেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা

সোদপুরে দুই দুষ্কৃতী দলের বোমাবাজি, ঝামেলা বন্ধ করতে গিয়ে আক্রান্ত ৭
  • ৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: সোদপুর এইচ সি দত্ত রোডে ঝামেলা শুরু হয়েছিল দুই দুষ্কৃতী দলের মধ্যে। পাড়ায় ঝামেলা শুনে বেরিয়ে এসেছিলেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। পাড়ার মধ্যে ঝামেলায় বাধা দেন তাঁরা। তারমধ্যে দুষ্কৃতীরা পরপর তিনটি বোমা ছুড়ে চম্পট দেয়। বোমার স্প্রিন্টার লেগে এক বিজেপি নেতা সহ সাতজন জখম হয়েছেন। এলাকায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। বোমাবাজি করার অভিযোগে খড়দহ থানার পুলিশ বিশু কর্মকার, সঞ্জয় দাস ও বিশ্বজিৎ পাল ওরফে চিমাকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের বৃহস্পতিবার বারাকপুর মহকুমা আদালতের বিচারক ১০ দিনের পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। 

Advertisement

পানিহাটি পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চন্দন দাস ওরফে গান্ধির সঙ্গে স্থানীয় সঞ্জয় দাসের ঝামেলা বেধেছিল। চন্দন দাস রাস্তায় বন্ধুদের সঙ্গে দাঁড়িয়ে গল্প করছিলেন। সেই সময় সঞ্জয় দলবল নিয়ে হাজির হয়। অভিযোগ, চন্দনের মাথায় চাবি দিয়ে আঘাত করা হয়। এনিয়ে দু’পক্ষের বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। চন্দনের বন্ধুরা সঞ্জয়ের সঙ্গে থাকা বিশ্বজিৎ পাল ওরফে চিমাকে ধরে ফেলে। বাকিরা পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় বিজেপি নেতা শুভব্রত বসু। তিনি দু’পক্ষকে বলেছিলেন, এলাকায় কোনো ঝামেলা করা যাবে না। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে। চিমাকে ছাড়াতে সঞ্জয় সহ চার-পাঁচজন বাইকে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পরপর তিনটি বোমা চার্জ করে। স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। বোমার স্প্লিন্টার লেগে শুভব্রত সহ সাতজন জখম হন। কারও পায়ে, কারও হাতে স্প্রিন্টার লেগেছে। তাঁদের কামারহাটির সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। শুভব্রতবাবু সহ দুজনের আঘাত গুরুতর হওয়ায় তাঁদের কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, আচমকা বোমাবাজি শুরু হয়। আমরা ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দিই। এক মহিলা বলেন, বোমা আমার সন্তানের গায়েও পড়তে পারত। এই ঘটনায় স্থানীয়রা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। রাতে খড়দহ থানার পুলিশ পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তিন দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় বলেন, আমরা পুলিশের কাছে দাবি জানিয়েছি কাউকে যেন ছাড়া না হয়। তাঁর আরও দাবি, অভিযুক্ত দুষ্কৃতীরা এতদিন তৃণমূলের ছত্রছায়ায় ছিল। যদিও তৃণমূল অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, এটা দুই দল দুষ্কৃতীর লড়াই। রাজনৈতিক বিরোধ নেই। দোলের দিন দু’পক্ষের মধ্যে ঝামেলা ও মারপিট হয়েছিল। তারই জেরে বোমাবাজি।

সম্পর্কিত সংবাদ