মুম্বই: প্রয়াত অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের ম্যানেজার দিশা সালিয়ানের মৃত্যুর তদন্তভার এবার সিবিআইকে দিল বম্বে হাইকোর্ট। ছ’বছরেও এই মামলায় এফআইআর দায়ের না করায় বুধবার আদালতের ভর্ৎসনার মুখে পড়ে মুম্বই পুলিশ। বিচারপতি সারং কোতওয়াল ও বিচারপতি রঞ্জিতসিংহ রাজা ভোঁসলের বেঞ্চ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে কোনো মামলার তদন্ত চলতে পারে না। মামলার যাবতীয় নথি কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে হস্তান্তর করতে হবে। সিবিআইয়ের একজন অভিজ্ঞ ও ঊর্ধ্বতন অফিসারকে তদন্তের দায়িত্বভার দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে উচ্চ আদালত।
২০২০ সালের ৮ জুন মুম্বইয়ের মালাডে এক বহুতলের ১৫ তলা থেকে পড়ে দিশার মৃত্যু হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা না খুন, তা নিয়ে ছ’বছর ধরে টানাপোড়েন চলছে। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছিল, দিশা আত্মহত্যা করেছিলেন। তবে দিশার বাবা সতীশ দাবি করেন, তাঁর মেয়েকে গণধর্ষণ করে খুন করা হয়। এবিষয়ে বম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি। বুধবার দুই বিচারপতির বেঞ্চে তারই শুনানি চলছিল। সবপক্ষের বক্তব্য শোনার পর সিবিআইয়ের হাতে তদন্তভার তুলে দেয় উচ্চ আদালত। কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে এফআইআর দায়ের করার পাশাপাশি দিশার বাবার বয়ান রেকর্ড করার নির্দেশ দেন দুই বিচারপতি। তাঁরা বলেন, ‘তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত কোনো ব্যক্তিকে অভিযুক্ত হিসাবে গণ্য করতে পারবেন না তদন্তকারী অফিসার। যদি দেখা যায় এই ঘটনায় কোনো মামলা দাঁড়ায়নি, তবে নির্দিষ্ট আদালতে তা নিয়ে সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট দিতে হবে সিবিআইকে। সতীশ সালিয়ান সংশ্লিষ্ট রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ করতে পারবেন।’ ৪৪ পাতার রায়ে পুলিশি তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে আদালত। এবিষয়ে ডিভিশন বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, ‘বর্তমান মামলার তদন্ত প্রায় ছ’বছর ধরে চলছে। পুলিশি তদন্তে উত্তরের তুলনায় বেশি প্রশ্ন উঠে এসেছে। গোটা প্রক্রিয়ায় প্রচুর অসামঞ্জস্য রয়েছে। তাই এক্ষেত্রে সিবিআই তদন্ত জরুরি। আমাদের মনে হচ্ছে, পুলিশের কাছে অপরাধের তদন্ত করার যথেষ্ট সুযোগ ছিল।’
দিশার মৃত্যুর ঘটনায় নাম জড়িয়েছে উদ্ববপন্থী শিবসেনা নেতা আদিত্য থ্যাকারের। এদিন উদ্ধব-পুত্রের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার আরজি জানান সতীশের আইনজীবী নিলেশ ওঝা। তবে এক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মন্তব্য করতে চায়নি উচ্চ আদালত।