বেঙ্গালুরু: প্রতি কেজি সোনা পাচারের জন্য ‘পারিশ্রমিক’ বাবদ মিলত ১ লক্ষ টাকা। সোনা পাচার কণ্ডে ধৃত কন্নড় অভিনেত্রী রন্যা রাওকে জেরা করে এমনই তথ্য হাতে পেলেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, বছরে ৩০ বার দুবাই যাওয়া-আসা করেছিলেন রন্যা।
বেঙ্গালুরু: প্রতি কেজি সোনা পাচারের জন্য ‘পারিশ্রমিক’ বাবদ মিলত ১ লক্ষ টাকা। সোনা পাচার কণ্ডে ধৃত কন্নড় অভিনেত্রী রন্যা রাওকে জেরা করে এমনই তথ্য হাতে পেলেন তদন্তকারীরা। জানা গিয়েছে, বছরে ৩০ বার দুবাই যাওয়া-আসা করেছিলেন রন্যা।
দুবাই থেকে সোনা পাচারের অভিযোগে বুধবার বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার হন রন্যা। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে তাঁকে আটক করে ডিরেক্টরেট অব রেভিনিউ ইনটেলিজেন্স (ডিআরআই)। শুরু হয় তল্লাশি। তাতেই উদ্ধার হয় প্রায় ১৫ কেজি সোনা। এদিন অভিনেত্রীর জামিনের আবেদনের রায় রিজার্ভ রেখেছে আদালত। সম্ভবত, আজ শুক্রবার রায় ঘোষণা হবে। এই প্রথমবার নয়। আগেও একাধিকবার দুবাই গিয়েছিলেন রন্যা। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, বছরে কমপক্ষে ৩০বার দুবাই যাওয়া আসা করতেন অভিনেত্রী। প্রতিবার দুবাই যাওয়ার জন্য মিলত টাকা। প্রতি কেজি সোনার জন্য ১ লক্ষ টাকা করে পেতেন রন্যা। অর্থাৎ একবার দুবাই থেকে সোনা আনলেই ১২ থেকে ১৩ লক্ষ টাকা আয় করতেন তিনি। এই অপারেশনের জন্য বিশেষ জ্যাকেট আর বেল্ট ব্যবহার করতেন আইপিএস রামচন্দ্র রাওয়ের সৎ কন্যা। নিরাপত্তারক্ষীদের ফাঁকি দিতে এক কনস্টেবলের সাহায্য নিতেন রন্যা। ইতিমধ্যে অভিনেত্রীর লাভেল রোডের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছেন ডিআরআই আধিকারিকরা। উদ্ধার করা হয়েছে ২ কোটি ৬ লক্ষ টাকার গয়না। একইসঙ্গে ২ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা নগদও মিলেছে। সব মিলিয়ে এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪ কোটি ৭৩ লক্ষের সম্পদ সহ প্রায় ১৮ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করেছেন তদন্তকারীরা। মেয়ের এই কীর্তিতে রীতিমতো হতবাক রামচন্দ্র। তিনি বলেন, ‘সাংবাদমাধ্যমে ঘটনার কথা জানতে পেরে চমকে যাই। এবিষয় কিছুই জানতাম না। মেয়ে স্বামীকে নিয়ে অন্যত্র থাকছে। আইন আইনের পথে চলবে। এবিষয় আর বেশি কিছু বলতে চাই না।’
ঘটনায় রন্যার পাশাপাশি তাঁর স্বামী যতীন হুক্কেরির নাম উঠে আসছে। যদিও যতীনের বিরুদ্ধে এখনও কোনও প্রমাণ মেলেনি। কয়েক মাস আগেই বেঙ্গালুরুর এক বিলাসবহুল হোটেলে বিয়ে করেছিলেন দু’জনে। বিয়ের পর যতীনের সঙ্গেই থাকতেন রন্যা। সেকথা জানিয়েছেন অভিনেত্রীর বাবা। ঘটনায় যতীনের যুক্ত থাকার সম্ভাবনা জোরালো হয়েছে।