Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

বফর্স, টুজি ও আবগারি দুর্নীতি, ক্ষমতা বদল হলেও প্রমাণ হল না কোর্টে

বফর্স, টুজি স্পেকট্রাম থেকে দিল্লির আবগারি কেলেঙ্কারি। স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ যেন এক আশ্চর্য সমাপতন। হিমালয় সমান দুর্নীতির অভিযোগ, দেশজুড়ে তোলপাড়, কুর্সি বদলে দেওয়া ভোটের ফলাফল। অথচ শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রমাণ হল না কিছুই!

বফর্স, টুজি ও আবগারি দুর্নীতি, ক্ষমতা বদল হলেও প্রমাণ হল না কোর্টে
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: বফর্স, টুজি স্পেকট্রাম থেকে দিল্লির আবগারি কেলেঙ্কারি। স্বাধীন ভারতের রাজনৈতিক ইতিহাসে এ যেন এক আশ্চর্য সমাপতন। হিমালয় সমান দুর্নীতির অভিযোগ, দেশজুড়ে তোলপাড়, কুর্সি বদলে দেওয়া ভোটের ফলাফল। অথচ শেষ পর্যন্ত আদালতে প্রমাণ হল না কিছুই!

Advertisement

সুইডেন থেকে বফর্স কামান কেনার ক্ষেত্রে বিশাল দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ১৯৮৭ সালের ১৬ এপ্রিল একটি সুইডিশ রেডিয়ো স্টেশনের খবরের জেরে ভারতে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল। বফর্স কামানের বরাতের ক্ষেত্রে ঘুষের অভিযোগ ওঠে। তৎকালীন কংগ্রেস সরকার তথা প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হয় বিরোধী শিবির। স্লোগান উঠে যায়, ‘গলি গলি মে শোর হ্যায়, রাজীব গান্ধী চোর হ্যায়।’ ১৯৮৯ সালের লোকসভা ভোটে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ার হারাতে হয় রাজীব গান্ধীকে। ক্ষমতা দখল করেন ‘বফর্স কেলেঙ্কারি’র অভিযোগ তুলে শিরোনামে আসা বিশ্বনাথপ্রতাপ সিংহ। কিন্তু দীর্ঘ আইনি লড়াই সত্ত্বেও সেই দুর্নীতি প্রমাণ হয়নি। পরে নরেন্দ্র মোদি জমানায় ২০১৮ সালে সিবিআই নতুন করে মামলা শুরুর আবেদন জানায়। যদিও সুপ্রিম কোর্ট তা খারিজ করে দেয়।
একইভাবে ইউপিএ জমানায় দেশজুড়ে শোরগোল ফেলে দিয়েছিল টুজি স্পেকট্রাম দুর্নীতির অভিযোগও। ২০১৪ সালে মনমোহন সিংকে ক্ষমতাচ্যুত করতে নরেন্দ্র মোদি তথা বিজেপি নেতৃত্বের অন্যতম হাতিয়ার ছিল এই টুজি স্পেকট্রাম কেলেঙ্কারি। যদিও ২০১৭ সালে মামলা খারিজ করে বিশেষ সিবিআই আদালত। জানিয়ে দেয়, স্পেকট্রাম বণ্টনে কোনো দুর্নীতি হয়নি! কোনো অনিয়ম ছিল না মনমোহন সরকারের স্পেকট্রাম বণ্টন নীতিতেও। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এ রাজা, করুণানিধির কন্যা কানিমোঝি-সহ অভিযুক্ত ডিএমকে নেতা-নেত্রীদের বেকসুর খালাস করেছিল আদালত। দিল্লির আবগারি দুর্নীতির অভিযোগও কার্যত সেই অভিমুখেই গড়াল। কেলেঙ্কারির এই অভিযোগকে সামনে রেখেই দিল্লির ভোটে জয়ী হয়েছিল বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার হারাতে হয়েছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে। ধরাশায়ী হয়েছিল তাঁর দল আম আদমি পার্টি। কিন্তু ইডি, সিবিআইয়ের বিস্তর দৌরাত্ম সত্ত্বেও আদালতে প্রমাণ হল না দুর্নীতির অভিযোগ। বেকসুর খালাস পেলেন কেজরিওয়াল সহ সব অভিযুক্তই।  

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ