নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনের মামলায় ধৃত এক বিচারাধীন বন্দির ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে রবিবার চাঞ্চল্য ছড়ায় হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে। মৃতের নাম মহম্মদ আনসারি (৩৫)। এদিন সাতসকালে সেলের ভিতরে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান নিরাপত্তারক্ষীরা। সঙ্গে সঙ্গে ওই বন্দিকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। জেলের ভিতরে তাঁকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে মৃতের পরিবার। তাঁরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলেছেন।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২১ সালে শালিমার রেল স্টেশনের কাছে তোলাবাজি নিয়ে বচসার জেরে ভোলা রায় নামের এক ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হন। তদন্তে নেমে তাঁকে খুনের চেষ্টার অভিযোগে পেশায় টোটোচালক মহম্মদ আনসারিকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া সিটি পুলিস। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা ও অস্ত্র আইনের মামলা রুজু হয়। আদালতের নির্দেশে তখন থেকেই হাওড়া জেলা সংশোধনাগারে বিচারাধীন বন্দি হিসেবে ছিলেন আনসারি।
জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে সংশোধনাগারের বন্দিরা কী করছেন, তা দেখার জন্য নিরাপত্তারক্ষীরা প্রতিটি সেলে রুটিনমাফিক নজরদারি চালাচ্ছিলেন। তখনই আনসারিকে গামছার ফাঁস দিয়ে সেলের ভিতরে ঝুলতে দেখেন তাঁরা। মহম্মদ আনসারির পরিবারকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসে আনসারির পরিবারের সদস্যরা। সেখানেই জেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। সেলের ভিতর আনসারিকে পিটিয়ে খুন করে দেহটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন পরিজনরা। মৃতের আত্মীয় সাইলা খাতুন বলেন, ‘মিথ্যা মামলায় ওকে ফাঁসিয়ে জেলে ভরে দেওয়া হয়েছিল। আমরা নিশ্চিত যে, চক্রান্ত করে জেলের ভিতরেই পিটিয়ে খুন করা হয়েছে। প্রমাণ লোপাট করতে দেহটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। বাড়িতে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। পুলিস নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দেখুক।’
বিষয়টি নিয়ে হাওড়া সিটি পুলিসের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ মৃতের পরিবারের দাবি, যে সেলে আনসারিকে রাখা হয়েছিল, সেখানে আরও তিনজন বিচারাধীন বন্দি রয়েছেন। আনসারি যদি আত্মহত্যা করেই থাকেন, তাহলে বাকিরা দেখেও বাধা দিলেন না কেন? প্রশ্ন তুলেছে মৃতের পরিবার। - নিজস্ব চিত্র