নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ফের খড়্গপুর আইআইটিতে পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু! শুক্রবার ওই পড়ুয়ার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। এ নিয়ে চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত চার পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটল আইআইটিতে। জানা গিয়েছে, মৃত ছাত্রের নাম রিতম মণ্ডল (২১)। তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ছিলেন। বাড়ি কলকাতার রিজেন্ট পার্ক এলাকায়। এদিন সকালে খড়গপুর আইআইটির রাজেন্দ্রপ্রসাদ হল অফ রেসিডেন্স-এ নিজের ঘরেই রিতমের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থলে আসে পুলিস ও মেডিক্যাল টিম। দেহটি উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা রিতমকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। একের পর এক এভাবে পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা খতিয়ে দেখতে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে এক ছাত্রের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়। এপ্রিল ও মে মাসেও দুই পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। আইআইটি কর্তৃপক্ষ একাধিক পদক্ষেপ নিলেও লাভের লাভ কিছুই হয়নি। খড়গপুর আইআইটির ডিরেক্টর সুমন চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমি একজন অভিভাবকের মতোই গভীরভাবে শোকাহত। আমাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত সহায়তার বিষয়গুলিকে সমন্বয় করা হয়েছে। যাতে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর না ঘটে। আইআইটি সূত্রে জানা গিয়েছে, রিতম খুবই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তিনি গ্রীষ্মকালীন ছুটি কাটিয়ে সম্প্রতি ক্যাম্পাসে ফিরে আসেন। শান্ত স্বভাবের জন্য সবার প্রিয় ছিলেন তিনি। বৃস্পতিবার রাতে নিজের ঘরেই তিনি ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার সকালে ঘরের দরজা না খোলায় সন্দেহ হয় অন্যান্য পড়ুয়াদের। তাঁরাই আইআইটি কর্তৃপক্ষকে খবর দেন। দ্রুত সেখানে পৌঁছয় আধিকারিকরা। এরপর পুলিস আসে। দরজা খুলে তারা ভিতরে ঢুকে লক্ষ্য করে, সিলিং ফ্যানে গামছার ফাঁসে ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছেন রিতম। আইআইটি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাউন্সেলিং সেন্টার থেকে রিতমের মানসিক স্বাস্থ্যের পর্যালোচনা করা হয়েছিল। সেই রেকর্ড অনুসারে, মানসিক অবসাদের পূর্ববর্তী কোনও লক্ষণ ছিল না। এমনকি, অ্যাকাডেমিকস্তরেও রিতমের কোনও সমস্যা তৈরি হয়নি। রিতমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। জেলা পুলিসের এক আধিকারিক জানান, আইআইটি খড়্গপুরের এক পড়ুয়ার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।



