নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: উত্তরপাড়ার এক জুনিয়র ডাক্তারের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে বারাণসীতে। ওই তরুণ ডাক্তারের মৃতদেহ বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটির (বিএইচইউ) ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সাইন্সেসের হস্টেল থেকে উদ্ধার হয়েছে। তাঁর শরীরে স্যালাইন দেওয়ার জন্য চ্যানেল করা ছিল। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি, সেই চ্যানেলের মাধ্যমে অতিরিক্ত মাত্রায় চেতনানাশক ওষুধ নিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক। পুলিশ জানিয়েছে, উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ওই তরুণ ডাক্তারের নাম ঋত্বিক কুণ্ডু (২৭)। তিনি অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগে জুনিয়র ডাক্তার হিসাবে কাজ করতেন। রবিবার দুপুরে তাঁর সহকর্মীরা হস্টেলের ঘরে গেলে তাঁকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। স্থানীয় পুলিশ ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে। উত্তরপাড়া থেকে তাঁর পরিবারও বারাণসীর উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে।
বারাণসীর লঙ্কা পুলিশ স্টেশন সূত্রে জানা গিয়েছে, হস্টেলের ওই ঘর থেকে তিন পাতার একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে। সেখানে তিনি বাবা ও মায়ের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ক্ষমা চেয়েছেন। পাশাপাশি, সেখানে এক তরুণীর কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও তাঁর স্পষ্ট পরিচয় নেই। ঋত্বিক তাঁর নোটে সেই তরুণীকে দায়ী করতে নিষেধ করেছেন। বস্তুত পুলিশের দাবি, তিনি কাউকেই তাঁর অবস্থার জন্য দায়ী করেননি। ওই নোটে আরও লেখা হয়েছে, আমি মরতে চাই না, কিন্তু মরতে হবে। পুলিশের দাবি, ওই নোট চিকিৎসককের কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই তদন্ত ও ময়নাতদন্তের পর্ব শুরু হয়েছে। গোটা বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো বিবৃতি মেলেনি। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই জুনিয়র ডাক্তার দায়িত্ববান ছিলেন। ঘটনার তদন্তে যথাযথ ভূমিকা পালন করা হবে।
উত্তরপাড়ার বাসিন্দা ঋত্বিক বরাবরই মেধাবী ছাত্র ছিলেন। তাঁর পরিবারে বাবা, মা ছাড়াও এক বোন আছে। কলকাতা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তনী ঋত্বিক উচ্চশিক্ষার জন্য বারাণসীতে গিয়েছিলেন। তিনি পিজিটি কোর্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তাঁর স্কুলের এক শিক্ষক বলেন, ও মেধাবী তো বটেই, ভালো মানুষও ছিল।