Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গ্রামের রাস্তায় পড়ে বিধবা যুবতীর নলিকাটা দেহ, বুদবুদে শোরগোল

রবিবার রাতে বুদবুদের মারো গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে এক বিধবা মহিলার গলার নলিকাটা দেহ উদ্ধার হয়েছে। এঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে প‌঩‌঩ড়ে।

গ্রামের রাস্তায় পড়ে বিধবা যুবতীর নলিকাটা দেহ, বুদবুদে শোরগোল
  • ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদতা, মানকর: রবিবার রাতে বুদবুদের মারো গ্রামে রাস্তার পাশ থেকে এক বিধবা মহিলার গলার নলিকাটা দেহ উদ্ধার হয়েছে। এঘটনায় এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে প‌঩‌঩ড়ে। জ্যোৎস্না বাগদি(৩৬) নামে ওই মহিলা মারো গ্রামেই থাকতেন। বুদবুদ থানার পুলিস এঘটনায় হারু বাগদি নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। আরও এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

Advertisement

এসিপি(কাঁকসা) সুমনকুমার জয়সওয়াল বলেন, হারুর সঙ্গে ওই মহিলার মনোমালিন্য চলছিল। হারু ছুরি কিনেছিল। বাড়ি ফেরার সময় তা দিয়ে জ্যোৎস্নার গলা কেটে দেয়। খবর পেয়েই পুলিস দেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীও রয়েছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
রবিবার রাত ৯টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা খবর পান, গ্রামে ঢোকার মুখে নির্জন জায়গায় জ্যোৎস্নাদেবীর দেহ পড়ে আছে। তাঁরা সেখানে গিয়ে ওই মহিলার গলার নলিকাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর জা আলো বাগদি বলেন, জ্যোৎস্নার বাবার বাড়ি কসবায়। চারবছর আগে ওর স্বামী মারা গিয়েছেন। দুই নাবালক ছেলেকে নিয়ে এখানেই থাকত। জ্যোৎস্না বাপের বাড়ি বা ডাক্তার দেখাতে গেলে আমার বাড়িতে ছেলেদের রেখে যেত। শনিবার সকাল ১০টার দিকে ও বাপের বাড়ি যাওয়ার নাম করে বের হয়। সেখান থেকে কোথায় গিয়েছিল জানি না। ওঁর ছেলেদের বলি, মা কখন আসবে খোঁজ নিতে। ছেলেরা জানায়, মা আসছে। তার কিছুক্ষণ পরই খবর পাই জ্যোৎস্নার ব্যাগ পাওয়া গেলেও তাঁকে পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর মাঠ থেকে ওঁর দেহ উদ্ধার হয়। ওর গলায় কাটা দাগ ছিল। পড়শি অসীম বাগদি বলেন, জ্যোৎস্নার হার্টে সমস্যা ছিল। বেশিরভাগ সময় বাড়িতেই থাকত। ঘটনার পর ভয় লাগছে।
পুলিসি তদন্তে এঘটনায় সম্পর্কে টানাপোড়েনের কথা উঠে আসছে। পুলিস জানিয়েছে, স্বামী মারা যাওয়ার পর কসবা এলাকার বাসিন্দা হারুর সঙ্গে জ্যোৎস্নার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তিনবছর ধরে সেই সম্পর্ক চলছিল। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত ফোনে কথা হতো। রবিবার জ্যোৎস্না হারুর সঙ্গেই ছিলেন। সন্ধ্যার পর টোটোয় করে মারো গ্রামে তাঁকে বাড়ি ছাড়তে যাচ্ছিল হারু। কিন্তু টোটোয় দু’জনের মধ্যে বচসা হয়। তারপরই জ্যোৎস্নাকে গলার নলি কেটে খুন করা হয় বলে পুলিস মনে করছে। পুলিস ওই টোটো আটক করেছে।
কিন্তু কেন এমন ঘটনা ঘটল? জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে হারু জ্যোৎস্নাকে বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছিল। কিন্তু জ্যোৎস্না তাতে রাজি ছিলেন না। তিনি ছেলেদের নিয়ে শ্বশুরবাড়িতেই থাকতে চাইছিলেন। হারুও বিবাহিত। তারও তিন মেয়ে রয়েছে। মৃতার ভাই উত্তম বাগদি বলেন, আমাদের দাবি, এঘটনায় দোষীকে কড়া শাস্তি দেওয়া হোক।  ঘটনাস্থল।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ