নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফুলের মালা দিয়ে সাজানো খাটিয়া। তার উপর সাদা কাপড়ে ঢাকা নিথর দেহ। মুখ ও পায়ের দিকটি অবশ্য খোলা ছিল। বনকর্মীরা ফুল ও মালা দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানালেন। বিদায় যাত্রায় প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে সবাই। তাতে লেখা, ‘সোহিনী উই উইল মিস ইউ ফরএভার’। এইভাবে ঝড়খালি ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রে মৃত বাঘিনী সোহিনীকে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা জানালেন বনকর্মীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে কেন্দ্রের পিছনে একটি জায়গায় দাহ করা হয় প্রবীণ প্রাণীটিকে। এই মৃত্যুর ঘটনার পর সেখানকার সবারই মন ভারাক্রান্ত।
বুধবার বিকেলে ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিচরণস্থলে নিস্তেজ হয়ে পড়েছিল সোহিনী। তাঁর শারীরিক পরীক্ষা করেন চিকিৎসকরা। তারপর জানান, মৃত্যু হয়েছে। রাতভর বরফ দিয়ে রাখা হয়েছিল দেহ। বৃহস্পতিবার নিয়ম মেনে হয় ময়নাতদন্ত। চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে জানান, বয়সজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে। এরপর শুরু হয় শেষযাত্রার প্রস্তুতি। বনকর্মীরা বাঁশের কাঠামো দিয়ে খাটিয়া তৈরি করেন। সেটি সাজানো হয় রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে। যাঁদের আদরযত্নে এতদিন বেঁচে ছিল সোহিনী সেই ১৫ বনকর্মীর কাঁধে চেপেই বিদায়যাত্রা হয় প্রাণীটির।
বনকর্মীরা বলেন, বুধবার দুপুরে খাওয়াদাওয়া করেছিল। দাঁতের সমস্যা থাকার কারণে বোনলেস মাংস দেওয়া হতো খেতে। খাওয়ার সময় কোনও অস্বাভাবিকতা চোখে পড়েনি। এর আগে বাঘ সোহানের ক্ষেত্রে যেমন শেষ চেষ্টা করেছিলেন চিকিৎসকরা, সোহিনীর বেলায় সেরকম কোনও সুযোগ পাওয়া যায়নি। এদিন যেভাবে সোহিনীকে বিদায় জানানো হয়, ঠিক একইভাবে সোহানকেও রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছিল। এই পুনর্বাসন কেন্দ্র চালু হওয়ায় পর তিনটি বাঘ আনা হয়েছিল। তাদের নামকরণ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছ’মাসের ব্যবধানে ঝড়খালির দুই প্রবীণ বাঘের মৃত্যুতে এখন পুরনোদের মধ্যে একা রয়েছে সুন্দর। তার বয়স যদিও বাকি দু’জনের থেকে কম। ২০১৮ সাল থেকে এই পুনর্বাসন কেন্দ্রই ছিল সোহিনীর ঘর। বয়স বাড়লেও দিব্যি ঘুরে বেড়াত এনক্লোজারের খোলা মাঠে। একটি চোখে ছানি পড়েছিল। কিন্তু বয়সের কারণে চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচার করতে পারেননি। তার মৃত্যুতে শূন্যতা তৈরি হয়েছে ঝড়খালি পুনর্বাসন কেন্দ্রে। বাঘিনীটির বয়স হওয়ায় তার প্রতি বেশি যত্নশীল ছিলেন বনকর্মীরা। খাঁচায় ঢুকে গেলে বারবার তাকে দেখে যেতেন। রাতেও চালাতেন নজরদারি। এই বাঘিনীর পর নতুন করে আর কোনও বাঘ এখানে আনা হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। সোহিনীর মৃত্যু নিয়ে শোকপ্রকাশ করেছেন রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা। তিনি বলেন, ‘বয়সজনিত কারণে মৃত্যু ওই বাঘিনীর। এই সংক্রান্ত বিস্তারিত রিপোর্ট দক্ষিণ ২৪ পরগনা বনবিভাগের থেকে চাওয়া হয়েছে।’