নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, কাকদ্বীপ: লখনউয়ের কোচিং সেন্টারের আগুনে মৃত্যু হয়েছিল রাজ্যের দুই তরুণ-তরুণীর। বুধবার দু’জনেরই দেহ ফিরল। একজনের বাড়ি হাওড়ায়, দ্বিতীয়জন দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপের বাসিন্দা। মৃত তরুণীর নাম অনামিকা সামন্ত (২৭)। কাকদ্বীপের যুবকের নাম সৌমাল্য বেরা (২৭)। পরিবার সূত্রে খবর, দুজনেরই বিয়ে ঠিক হয়েছিল। অনামিকার বিয়ে হওয়ার কথা নভেম্বরে। সৌমাল্যর বিয়ে ঠিক হয়েছিল অক্টোবর মাসে।
বুধবার হাওড়ার গড়বালিয়ার বাসিন্দা অনামিকা সামন্তের দেহ বাড়ি ফিরলে শোকের ছায়া নেমে আসে। সোমবার লখনউয়ের কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারান জগৎবল্লভপুরের গড়বালিয়ার এই বাসিন্দা। কয়েক মাস পরেই তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। চূড়ান্ত কথাবার্তা চলছিল। আগুনে প্রাণ হারান অনামিকা ও তাঁর হবু স্বামী নিলেশ কুমার। মঙ্গলবার ভোরে বিমানে লখনউ পৌঁছন অনামিকার বাবা-মা। বুধবার সকাল ১০টা নাগাদ অ্যাম্বুলেন্সে করে অনামিকার দেহ গড়বালিয়ার বাড়িতে পৌঁছয়। দেহ আসার আগে সামন্ত বাড়ির সামনে জড়ো হয়েছিলেন বহু গ্রামবাসী। অ্যাম্বুলেন্স গ্রামে ঢুকতেই কান্নার রোল ওঠে। মৃতার পিসতুতো দাদা কৌশিক সামন্ত বলেন, ‘কয়েক মাস পরে ওর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। বাড়িতে বিয়ের নানা প্রস্তুতি চলছিল। গ্রামের বাড়িতে ধুমধাম করে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা ছিল। সবকিছু মুহূর্তে শেষ হয়ে গেল।’
অন্যদিকে, সৌমাল্যর দেহ এসে পৌঁছয় কাকদ্বীপের দ্বারিকনগরের বাড়িতে। বুধবার বিকেলে কফিন বন্দি দেহ গ্রামে ঢুকতেই কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা পাড়া। ছোটো ছেলের মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ যুবকের বাবা ও মা। চার বছর আগে লখনউয়ের একটি অ্যানিমেশন কোম্পানিতে যোগ দিয়েছিলেন সৌমাল্য।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনমাস আগে বাড়ি এসেছিলেন সৌমাল্য। ৩০ জুন ফের আসার কথা ছিল তাঁর। অক্টোবরে বিয়ে ঠিক হয়েছিল যুবকের। প্রস্তুতি অনেকটা শেষ হয়ে গিয়েছিল। ছেলের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না বাবা ও মা। মৃতের বাবা তপন বেরা বলেন, ২২ তারিখ ছেলেকে ফোন করছিলাম। কিন্তু অনেকক্ষণ ধরে বন্ধ ছিল। ওর ফোনটা গন্ডগোল করছিল। ভাবলাম খারাপ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু পরে ওর সঙ্গে কাজ করা কলকাতার একটি মেয়ের বাড়ির লোক আমাদের দুর্ঘটনার খবর দেয়। অনেকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করেও লাভ হয়নি। পরে সেখান থেকে ছেলের মৃত্যু সংবাদ আসে।