


নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: সুন্দরবনে পর্যটকদের নিয়ে নদীতে ভ্রমণ করে বহু ট্যুরিস্ট বোট। গতবছর সুন্দরবন টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ এসেছিল অনেক নৌকারই হাল ঠিকঠাক নয়। নদীতে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করে।
এরপর টাইগার রিজার্ভ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদকে বোট পরীক্ষার আবেদন জানায়। তারপর একটি এজেন্সিকে পরীক্ষার দায়িত্ব দেওয়া হয়। ডিসেম্বর মাসে সব বোটের পরীক্ষা হয়। সেই কাজ শেষ করে রিপোর্ট দেয় সংস্থাটি। দেখা গিয়েছে, ৬৩৪ নৌকার হাল পরীক্ষা করা হয়েছে। তার মধ্যে অনুত্তীর্ণ কেবল পাঁচটি বোট। আরও পাঁচটির ফলপ্রকাশ এখনও হয়নি। জেলা পরিষদের দাবি, রিপোর্ট দেখে বোঝা যাচ্ছে পর্যটকদের নিয়ে যাতায়াত করে যে নৌকাগুলি তা সম্পূর্ণ নিরাপদ। সবমিলিয়ে ফিটনেস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ সুন্দরবনের বেশিরভাগ ট্যুরিষ্ট বোট।
প্রতিবছর বোটের লাইসেন্স নতুন করে ইস্যু করে টাইগার রিজার্ভ কর্তৃপক্ষ। তার জন্য জেলা পরিষদ থেকে বোট মালিকদের ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ সংগ্রহ করতে হয়। সেটি এসটিআর অফিসে জমা দেওয়ার পর তারা লাইসেন্স প্রদান করে। গতবছরই প্রথম টাইগার রিজার্ভের আবেদনে সাড়া দিয়ে জেলা পরিষদ ঠিক করেছিল এনওসি দেওয়ার আগে প্রত্যেক বোটের ফিটনেস পরীক্ষা হবে। এরপর নৌকার মাপ, ইঞ্জিনের হাল, সুরক্ষাবিধি মানা প্রভৃতি বিষয় পরীক্ষা করে দেখে এজেন্সিটি। গোসাবা, বাসন্তী, ঝড়খালি, নামখানা, পাথরপ্রতিমায় দফায় দফায় বোটের পরীক্ষা হয়। যে পাঁচটি বোট পরীক্ষায় অনুত্তীর্ণ সেগুলির মধ্যে খামতি দেখা দেয়। আর যে পাঁচটির ফলাফল এখনও প্রকাশিত হয়নি, তাদের বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তন করতে বলা হয়েছে। তারপর ফের যাচাই হবে।
২০২৪ সালে জেলা পরিষদ থেকে এনওসি নিয়েছিল প্রায় ৬৫০ বোট। কিন্তু এবার পরীক্ষা হয় ৬৩৪টি নৌকার। অনুমান, পরীক্ষায় অংশ না নেওয়া ১৬টি বোটের ত্রুটি রয়েছে এবং পরীক্ষায় তা ধরা পড়ত। তাই তারা অংশ নেয়নি পরীক্ষায়। জেলা পরিষদের উপাধ্যক্ষ অনিমেষ মণ্ডল বলেন, ‘পর্যটকদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বোটগুলির স্বাস্থ্যপরীক্ষা হয়েছে। রিপোর্টে দেখা গিয়েছ প্রায় সবকটিই নিরাপদ। পর্যটনের ক্ষেত্রে এটি ভালো বার্তা বহন করছে।’