Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পদ্মাপারের পিকনিক স্পটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে নৌকাবিহার, প্রশ্নে নিরাপত্তা

বর্ষায় জল বাড়ছে পদ্মায়। সেই সঙ্গে জল বাড়ছে পদ্মার শাখা নদীগুলিতেও। এমনিতেই সারাবছর জলঙ্গি পিকনিক স্পটে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে।

পদ্মাপারের পিকনিক স্পটে লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই চলছে নৌকাবিহার, প্রশ্নে নিরাপত্তা
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: বর্ষায় জল বাড়ছে পদ্মায়। সেই সঙ্গে জল বাড়ছে পদ্মার শাখা নদীগুলিতেও। এমনিতেই সারাবছর জলঙ্গি পিকনিক স্পটে পর্যটকদের ভিড় লেগেই থাকে। তবে বর্ষা এলেই নদীর জল দেখতে ও নৌকাবিহার উপভোগ করতে কয়েকগুণ বেড়ে যায় সেই ভিড়। প্রতিদিন বিকেল হলেই পদ্মার পাড়ের পিকনিক পয়েন্টে ভিড় করছেন বহু মানুষ। তাঁদের ভরসা করেই চলছে নদীতে নৌকাবিহার। কিন্তু অভিযোগ, লাইফ জ্যাকেট ছাড়াই নৌকায় একসঙ্গে শিশু থেকে বড়দের তুলে নদীতে চালানো হচ্ছে নৌকা। আর তাতেই বাড়ছে বিপদের আশঙ্কা। জলঙ্গির বিধায়ক বাবর আলি বলেন, নৌকাবিহারে সুরক্ষার বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কথা বলে কীভাবে কী ব্যবস্থা করা যায়, সেই চেষ্টা করছি।

Advertisement

মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়ার গোদাগাড়ির কাছে মূল পদ্মা থেকে উৎপত্তি হয়েছে পদ্মার এই শাখা নদীর। সেখান থেকে বয়ে জলঙ্গির পিকনিক পয়েন্টের কাছে বাঁক নিয়ে বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ফের মূল পদ্মায় মিশেছে নদীটি। জলঙ্গিতে শাখা নদীর ওই বাঁক ঘেঁষে একফালি জায়গায় গড়ে উঠেছে পিকনিক পয়েন্ট। সেখানে রয়েছে বেশ কিছু খাবারের দোকানও। নদীর সৌন্দর্য উপভোগ করতে সারাবছরই বিকেলের দিকে এখানে ভিড় করেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে দূরদূরান্তের মানুষ। তবে বর্ষায় নদী ফুলেফেঁপে উঠতেই সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে যায়।
মানুষের আনাগোনা বাড়ায় নদীর পাড়ে পসরা সাজিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা। চা, ফুচকা, ঘুগনি থেকে শুরু করে শিশুদের খেলনা ও বেলুন-সবকিছুরই দেখা মেলে পিকনিক পয়েন্টে। বিক্রি বাড়ায় খুশি দোকানিরাও। পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে শাখা পদ্মায় নৌকাবিহার। জনপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকা দিলেই প্রায় দশ মিনিটের জন্য নৌকায় ঘোরার সুযোগ মিলছে। নৌকায় বসে দু’পারের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে আট থেকে আশি সব বয়সের মানুষই ভিড় করছেন।
তবে অভিযোগ, নৌকায় যাত্রী তোলা হলেও তাঁদের জন্য পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা থাকছে না। ফলে নৌকা সামান্য দুর্ঘটনার কবলে পড়লে কিংবা কোনও যাত্রী নদীতে পড়ে গেলে বিপদ অনেকটাই বেড়ে যেতে পারে। বিশেষ করে বর্ষায় শাখা নদীতে জলস্তর বাড়ায় ঝুঁকিও বেশি। তার উপর নৌকাবিহারের জায়গা থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই শাখা নদী গিয়ে বাংলাদেশের মূল পদ্মার সঙ্গে মিশেছে। ফলে কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।
স্থানীয় সচেতন বাসিন্দাদের দাবি, লাইফ জ্যাকেট ছাড়া কোনোভাবেই নৌকাবিহার চালানো উচিত নয়। ছোট নৌকা চালকদের পক্ষে দামি সুরক্ষা সরঞ্জাম কেনা কঠিন হলে প্রশাসনের তরফে মানবিক দিক দিয়ে হলেও অন্তত প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। তাতে একদিকে নৌকা চালকদের উপর বাড়তি আর্থিক চাপ পড়বে না, অন্যদিকে নদীতে ঘুরতে আসা মানুষের জীবনও সুরক্ষিত থাকবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নৌকা চালক বলেন, ঈদ, পুজো কিংবা বর্ষার সময়ে মানুষ বেড়াতে আসে বলেই আমাদের কিছুটা রোজগার হয়। এখন দামি দামি সুরক্ষা সরঞ্জাম কিনতে গেলে আমাদের ব্যবসা চালানোই কঠিন হয়ে যাবে। জনপ্রতি ২৫-৩০ টাকা করে নিয়ে কতটাই বা আয় হয়।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ