Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল: ১০ শিশুর মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল কর্তৃপক্ষ, পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে জোর

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরপর দু’দিনে ১০ জন শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যভবন।

উত্তরবঙ্গ মেডিকেল: ১০ শিশুর মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসল কর্তৃপক্ষ, পরিকাঠামো বৃদ্ধিতে জোর
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরপর দু’দিনে ১০ জন শিশুমৃত্যুর ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যভবন। গত ২ ও ৩ আগস্ট মেডিকেল কলেজে ১০টি শিশুমৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অযৌক্তিক রেফারের প্রবণতাকে দায়ী করেছে। কিন্তু, স্বাস্থ্যভবন এই তত্ত্বে সিলমোহর দিচ্ছে না। শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগকে শক্তিশালী করে তোলার উদ্যোগেই তা বুঝিয়ে দিয়েছে। ভেন্টিলেটর বাড়ানোর উদ্যোগ যার অন্যতম। সেই সঙ্গে বিশেষজ্ঞ দল পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তর। 

Advertisement

শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে স্বাস্থ্যভবনের আধিকারিকরা গত মঙ্গলবার ভিডিয়ো কনফারেন্স করে পরিষেবা শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন। যে ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে তারমধ্যে বেশ কয়েকটি শিশু মৃত্যু হয়েছে ভেন্টিলেটর পরিষেবা না পাওয়ায়। উত্তরবঙ্গের একমাত্র টারশিয়ারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগে কেন পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর থাকবে না, সে প্রশ্নও উঠেছে। 
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৮টি ভেন্টিলেটর থাকলেও মাত্র আটটি ভেন্টিলেটর এখানে কার্যকর। বাকি ১০টি ব্যাটারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে রয়েছে। অবিলম্বে ওই ১০টি ভেন্টিলেটর মেরামত করে চিকিৎসা পরিষেবায় লাগানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। এ কথা জানিয়ে হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছি। স্বাস্থ্যভবন থেকেও বিশেষজ্ঞ টিম পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা এলে আমরা জানতে পারব আরও ভালো পরিষেবা দেওয়ার জন্য কী কী কাজ আমাদের করতে হবে এবং কোথাও কোনো ত্রুটি রয়েছে কি না। 
প্রিন্সিপাল ডাঃ সুজয় মিস্ত্রির বক্তব্য, মৃত ১০ শিশুর মধ্যে মাত্র একজনের জন্ম উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হয়েছিল। বাকি অধিকাংশই বিহার ও বিভিন্ন জেলার সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় রেফার হয়ে এসেছিল। 
প্রিন্সিপালের দাবি, অনেক ক্ষেত্রেই রোগী রেফার করার আগে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ভেন্টিলেটর বা অন্যান্য পরিষেবার প্রাপ্যতা সম্পর্কে কোনো খোঁজ নেওয়া হয়নি। অনেক শিশুর অক্সিজেনের মাত্রা অস্বাভাবিক হারে কমে গিয়েছিল। তাদেরও ঝুঁকি নিয়ে রেফার করা হয়েছে। এই অবস্থায় চিকিৎসা না করে কেন রেফার করা হয়েছিল তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ভর্ৎসনা করেন রাজ্যের স্বাস্থ্য আধিকারিকরা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ