Bartaman Logo
১৩ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

চার্জশিটে একই ব্যক্তি অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত, সুপারকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ

অভিযোগকারীকেই অভিযুক্ত বানিয়েছে পুলিশ। বিষ্ণুপুর আদালতে দাখিল হওয়া চার্জশিট দেখে হতবাক বিচারক।

চার্জশিটে একই ব্যক্তি অভিযোগকারী ও অভিযুক্ত, সুপারকে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ
  • ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: অভিযোগকারীকেই অভিযুক্ত বানিয়েছে পুলিশ। বিষ্ণুপুর আদালতে দাখিল হওয়া চার্জশিট দেখে হতবাক বিচারক। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সোনামুখীর থানায় রুজু হওয়া একটি বধু নির্যাতন ও পকসো মামলায় অভিযোগকারী ছিলেন নাবালিকার বাবা। একই মামলায় নাবালিকার বাবা ও মা উভয়কেই অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে। এই ঘটনায় আদালত চত্বরে ব্যাপক শোরগোল পড়ে। পুলিশের ওই গাফিলতির কারণে বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতের অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারক প্রদীপ অধিকারী ওই মামলার তদন্তকারী অফিসার সহ থানার তৎকালীন আইসির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন। অবশ্য পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই মামলায় বধূ নির্যাতন, পকসোর পাশাপাশি চাইল্ড ম্যারেজ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। চাইল্ড ম্যারেজ আইন অনুযায়ী নাবালিকার বিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবারের লোকেরাও সমানভাবে দায়ী। সেই কারণেই একই মামলায় অভিযোগকারীকেও যুক্ত করা হয়েছে। যদিও আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, আইন অনুযায়ী একই মামলায় অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত একই ব্যক্তি হতে পারে না। এরকম ঘটনায় পৃথক মামলা করা যেতে পারে। কিন্তু এক্ষেত্রে তা করা হয়নি। চার্জশিটে অভিযোগকারীকেই অভিযুক্ত হিসাবে দেখানো হয়েছে। এটা পুলিশের গাফিলতি মনে করে বিচারক জেলা পুলিশ সুপারকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সোনামুখী থানায় একটি বধু নির্যাতনের মামলা রুজু হয়। ওই বধূ নাবালিকা এবং তাঁর গর্ভে সন্তান ছিল। তাঁকে শ্বশুরবাড়িতে অত্যাচার করে তাড়িয়ে দেওয়া হয় বলে নাবালিকার বাবা সোনামুখীর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ওই মামলায় বধু নির্যাতনের পাশাপাশি পকসো এবং চাইল্ড ম্যারেজ আইনে মামলা রুজু করে। সম্প্রতি তার চার্জশিট বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে দাখিল করা হয়। ওই চার্জশিটে একদিকে নাবালিকার স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি সহ মোট ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অপরদিকে নাবালিকার বাবা যিনি ওই মামলায় মূল অভিযোগকারী, তাঁকে এবং তাঁর স্ত্রীকেও অভিযুক্ত বানানো হয়েছে। এমন অদ্ভুত চার্জশিট দেখে বিচারক স্তম্ভিত। তিনি পুলিশের গাফিলতির জন্য সুপারকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। ওই ঘটনা জানাজানি হতেই আদালত চত্বরে শোরগোল পড়ে।           

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ