নয়দিল্লি: প্রথমে আয়ারল্যান্ড, তারপর ইংল্যান্ড— টিম ইন্ডিয়ার ব্যাক টু ব্যাক সিরিজ হারে বিরক্ত বিসিসিআই। ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধানে আগস্টের প্রথম দিকে বৈঠকে বসতে পারেন বোর্ড কর্তারা। সেখানে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্স নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ হবে। আতসকাচের তলায় কোচ গৌতম গম্ভীর সহ বাকি সাপোর্ট স্টাফরাও।
আয়ারল্যান্ড সফরে ০-২ ব্যবধানে টি-২০ সিরিজ হেরেছিল ভারত। এই ফরম্যাটে র্যাঙ্কিংয়ে আইরিশরা রয়েছে একাদশ স্থান। সেখানে ভারত শীর্ষস্থানাধিকারী। ফলে সিরিজের ব্যর্থতা প্রবল সমালোচনার মুখে ফেলেছিল কোচ গৌতম গম্ভীরকে। নবনিযুক্ত ক্যাপ্টেন শ্রেয়স আয়ারও হতাশানজনক পারফর্ম করেছিলেন। সবমিলিয়ে আয়ারল্যান্ডের মাটিতে ভারতের টি-২০ বিপর্যয় মোটেও ভালো বিজ্ঞাপন ছিল না। আশা করা হয়েছিল, ভুল শুধরে গম্ভীরের ছেলেরা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে টি-২০ এবং ওয়ান ডে সিরিজে ঘুরে দাঁড়াবে। কিন্তু প্রত্যাশার ফানুস চুপসে গিয়েছে খুব দ্রুত। পাঁচ ম্যাচের টি-২০ সিরিজ ইংল্যান্ড জেতে ৪-০ ব্যবধানে। এরপর হ্যারি ব্রুকরা ওয়ান ডে সিরিজেও ভারতকে ২-১ ব্যবধানে পরাস্ত করে। সবমিলিয়ে টিম ইন্ডিয়ার এই ধারাবাহিক ব্যর্থতা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন। ওয়ান ডে সিরিজে রোহিত শর্মার দলে থাকা নিয়েও অনিশ্চিয়তা তৈরি হয়েছিল। শেষপর্যন্ত অন্তিম ম্যাচে তিনি সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে নিজের জায়গা সুরক্ষিত করতে সফল হয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু দলের পরাজয় এড়াতে পারেননি।
আসলে আগামী বছর দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে ওয়ান ডে বিশ্বকাপ। সেটাকেই পাখির চোখ করছে বিসিসিআই। এই পরিস্থিতিতে সীমিত ওভারের সিরিজে দলের খারাপ পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে অশনিসংকেত। তাই কোচ গম্ভীরের সঙ্গে বোর্ড কর্তারা আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। এমনিতেই টিম ইন্ডিয়ার সহকারী কোচ রায়ান ডয়েশকাটে পরিস্থিতি বেগতিক দেখে বিদায়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন। ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপের চাকরিও যেতে পারে। বোলিং কোচ মর্নি মর্কেলকে নিয়েও হতাশা কম নয়। গম্ভীরকে নিয়েও অসন্তোষ বাড়ছে। তবে তাঁকে কোচের দায়িত্ব থেকে হয়তো এখনই সরিয়ে দেওয়া হবে না। কিন্তু জল যেদিকে গড়াচ্ছে, তাঁর উপর আস্থা ক্রমশ কমছে বোর্ডের।