সংবাদদাতা, বনগাঁ: পলাতক বিএনপি নেতার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করল বাগদা থানার পুলিস। ধৃতের নাম শেরফুল মণ্ডল। বাগদার বাগী গ্রামের বাসিন্দা শেরফুলকে শুক্রবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে পুলিস। শনিবার তাঁকে বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক চারদিনের পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দেন। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশি নাগরিককে আশ্রয় দেওয়া এবং তথ্য গোপন করে ভারতের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সাহায্য করার অভিযোগ রয়েছে শেরফুলের বিরুদ্ধে।
জানা গিয়েছে, বাংলাদেশের মহেশপুরের বাসিন্দা বিএনপি নেতা রিজাউল মণ্ডল প্রায় ৩০ বছর আগে চোরাপথে ভারতে এসে বাগদার বাগী গ্রামে বসবাস শুরু করে। পরে ওই গ্রামেরই শেরফুলকে বিয়ে করে সে। শেরফুলের মা তখন বেঁচে। তিনি এদেশের ভোটার তালিকায় নাম তুলতে সাহায্য করেছিলেন রিজাউলকে। তৈরি হয়েছিল একাধিক পরিচয়পত্র। রিজাউল হাসিনা সরকারের আমলে এদেশে পালিয়ে এসে আত্মগোপন করেছিল। বছর দেড়েক আগে হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশে ফেরে সে।
সম্প্রতি রিজাউলের বড় ছেলে এক নাবালিকাকে অপহরণের কেসে জড়িয়ে পড়ে। বনগাঁ থানার পুলিস সেই নাবালিকাকে উদ্ধার করে। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে অভিযুক্ত ছেলে ও তার বাবার ভোটার কার্ডের বয়সের পার্থক্য দেখে সন্দেহ হয় পুলিসের। বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য বাগদার বিডিওকে অনুরোধ করা হয়। বিডিও তদন্ত করে রিজাউলকে হাজির হতে নির্দেশ দেন। যদিও তার আগেই সে গা ঢাকা দেয়। বৃহস্পতিবার শেরফুল বিডিও অফিসে গিয়ে স্বামী নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানান। গ্রেপ্তারের আগে স্ত্রী শেরফুল মণ্ডল বলেন, আমি বিয়ের আগে জানতাম না যে, স্বামী বাংলাদেশি। আমার মাকে নিজের মা সাজিয়ে ভোটার তালিকায় নাম তুলেছিল সে। এখন বাংলাদেশে পালিয়ে গিয়েছে। আমরা চাই, ওর নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হোক।