Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বঙ্গভবন থেকে সরল শেখ মুজিবুরের ছবি, স্কুল সিলেবাসে যুক্ত হচ্ছে আরবি ভাষা

বঙ্গভবন থেকে সরল শেখ মুজিবুরের ছবি, স্কুল সিলেবাসে যুক্ত হচ্ছে আরবি ভাষা
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ঢাকা: ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা অব্যাহত বাংলাদেশে। রাষ্ট্রপতির বাসভবন বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে সরিয়ে ফেলা হল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদ্য নিযুক্ত উপদেষ্টা মাহফুজ আলম সোমবার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে একথা জানান।
Advertisement
সোমবার ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে ৭১ পরবর্তী ফ্যাসিস্ট শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি সরানো হয়েছে। এটা আমাদের জন্য লজ্জার যে, আমরা ৫ আগস্টের পর বঙ্গভবন থেকে তার ছবি সরাতে পারিনি। ক্ষমাপ্রার্থী। কিন্তু, জুলাইয়ের চেতনা বেঁচে থাকা পর্যন্ত তাকে আর কোথাও দেখা যাবে না।’ সেখানেই অবশ্য থামেননি তিনি। বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনার সমালোচনা করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এই নেতা আরও লেখেন, ‘শেখ মুজিব এবং তাঁর মেয়ে বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে যা করেছেন, তা বাংলাদেশ আওয়ামি লিগকে স্বীকার করতে হবে। ১৯৭২ সালের অগণতান্ত্রিক সংবিধানের পাশাপাশি দুর্ভিক্ষ, কোটি কোটি টাকা পাচার এবং হাজার হাজার ভিন্নমতাবলম্বী ও বিরোধীদের বিচারবহির্ভূত হত্যার (৭২-৭৫, ২০০৯-২০২৪) জন্য ক্ষমা চাইতে হবে। তবেই আমরা ১৯৭১ সালের আগের শেখ মুজিবের কথা বলতে পারি। ক্ষমা ও ফ্যাসিস্টদের বিচার ছাড়া কোনও সমন্বয় হবে না।’ 
প্রসঙ্গত, ছাত্র-জনতা আন্দোলনে গত ৫ আগস্ট আওয়ামি লিগ সরকারের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটে। দেশ ছাড়তে বাধ্য হন শেখ হাসিনা। এরপর থেকেই বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও ম্যুরাল ভেঙে ফেলা হয়। বিভিন্ন দপ্তরের অফিস থেকে সরিয়ে ফেলা হয় শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি। 
বিতর্কের সূত্রপাত গত রবিবার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নতুন তিন উপদেষ্টার শপথ অনুষ্ঠানের সময় বঙ্গভবনের দরবার হলে বঙ্গবন্ধুর ছবি ঘিরে। এর প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তার পরেই আজ ফেসবুক পোস্ট করে দরবার হল থেকে বঙ্গবন্ধুর ছবি সরানোর কথা জানান মাহফুজ।
বঙ্গভবনের দরবার হল থেকে শুধু ছবি সরিয়েই বঙ্গবন্ধুর উপর আক্রোশ মেটেনি নতুন বাংলাদেশের। এবার উচ্চ মাধ্যমিকের একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যবই থেকে চারজন লেখকের লেখা বাদ পড়ছে। তার মধ্যে রয়েছেন শেখ মুজিবুর রহমান ও মহম্মদ জাফর ইকবাল। এছাড়াও, তিনজনের কবিতা ও গল্প পরিবর্তন এবং পাঁচজন লেখকের রচনার অনুশীলনী পরিমার্জন করারও প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে নতুন বিষয় হিসেবে যুক্ত হচ্ছে আরবি ভাষা। জানা গিয়েছে, ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সিলেবাসে আরবি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ