নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রেমিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ। সেই দৃশ্য গোপনে ক্যামেরাবন্দি করেছে আরেক বন্ধু। পরে সেই ভিডিও পাঠানো হয়েছে পরিচিত কয়েকজনকে। ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি জনসমক্ষে চলে আসার খবর পাওয়ায় ট্যাংরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ওই তরুণী। মোবাইলে তোলা ভিডিও ফুটেজের সূত্র ধরে সাধনকুমার সাউ নামের ওই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এই যুবকই ওই ভিডিও পোস্ট করেছিল বলে অভিযোগ। ধর্ষণকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত এখনও ফেরার। তার খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিস।
Advertisement
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর সঙ্গে ২০২২ সালে পরিচয় হয় রাহুল নামে এক যুবকের। আলাপ জমে ওঠার পর প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন দু’জন। এর মধ্যেই মেলামেশা বাড়তে থাকে তাঁদের। অভিযোগ, রাহুল ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার ধর্ষণ করেছে। সেখানে আগে থেকেই হাজির থাকত রাহুলের বন্ধু সাধন। রাহুল ও বান্ধবীর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি গোপনে ক্যামেরাবন্দি করাই ছিল তার কাজ। তা কোনওদিন টের পাননি অভিযোগকারিণী। কিছুদিন পর রাহুলের সঙ্গে সম্পর্কে অবনতি হয় তরুণীর। তখন রাহুল তাঁকে গোপন ভিডিও ভাইরালের হুমকি দেয়। তরুণী সেদিন জানতে পারেন, তলে তলে সাধনকে দিয়ে অন্তরঙ্গ দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করিয়েছে রাহুল। সেই ভিডিও গত ফেব্রুয়ারি মাসে ভাইরাল হয়েছে বলে অভিযোগ। রাহুল তার কাছের বন্ধুবান্ধবদের মোবাইলে সেটি পাঠিয়েছে। একথা জানার পর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তরুণী। কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার পর তিনি ট্যাংরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তার ভিত্তিতে পুলিস ধর্ষণ সহ একাধিক ধারায় কেস রুজু করে। অভিযোগকারিণী গোপন জবানবন্দি দেন আদালতে। অভিযুক্ত দুই যুবকের মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে সাধনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তাকে জেরা করে জানা গিয়েছে, সাধনই ওই ভিডিও তুলেছিল। ধৃতের বক্তব্য, রাহুলের পরামর্শেই সে ওই ভিডিও তুলেছে। ঘটনার পর থেকেই মূল অভিযুক্তের মোবাইল বন্ধ। সোর্সদের কাজে লাগিয়ে তার অবস্থান জানার চেষ্টা করছে পুলিস।



