নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: মদ্যপ অবস্থায় বন্ধুর বুকে ছুরি বসিয়ে খুনের অভিযোগে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিলেন চুঁচুড়া আদালতের বিচারক। চুঁচুড়া দায়রা আদালতের প্রথম অতিরিক্ত জেলা বিচারক সঞ্জয়কুমার শর্মা সম্প্রতি এই রায় দিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, সাজাপ্রাপ্ত বন্দির নাম ছোটু দাস। ২০২০ সালের ২৮ অক্টোবর মদের আসরে রিকশচালক রামদাস মাঝিকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে খুন করেছিল ছোটু। নির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে পুলিস ছোটুকে গ্রেপ্তার করে। তারপর থেকে সে বিচারাধীন ছিল। তাৎপর্যপূর্ণ এই যে, সাজাপ্রাপ্ত ছোটু বিশেষভাবে সক্ষম। ট্রেন থেকে ছিনতাই করে পালাতে গিয়ে তার দুই পা হাঁটুর নীচে থেকে কাটা পড়েছিল। কিন্তু তারপরেও চুরি, ছিনতাইয়ের অভ্যাস ছাড়তে পারেনি। শেষপর্যন্ত শুক্রবার খুনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে যাবজ্জীবন সাজা পেল ছোটু। সরকারি আইনজীবী অরূপকান্তি চট্টোপাধ্যায় বলেন, দুই প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষ্য দিয়েছেন। পাশাপাশি, আরও আটজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত বিচারক সঞ্জয় শর্মা, ছোটুকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। সঙ্গে দশহাজার টাকা জরিমানাও। ওই টাকা অনাদায়ে আরও ছ’মাসের কারাবাসের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, নিহত রামদাস ও ছোটু দু’জনেই একটি আশ্রমের আবাসিক ছিল।
Advertisement
ঘটনার দিন রাতে এক বন্ধুকে নিয়ে মদের আসর বসিয়েছিল ছোটু। ঘটনাচক্রে সেই এলাকা দিয়ে যাচ্ছিলেন রামদাস। তাঁকে দেখেই ছোটু গালমন্দ শুরু করে। তার প্রতিবাদ করেন রামদাস। এরপর আচমকা ছুরি বের করে রামদাসের বুকে বসিয়ে দেয় ছোটু। পরের দিন সকালে পুলিস মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বরাবরই চুরি, ছিনতাই করত ছোটু। পা কাটা যাওয়ার পর তাকে ঘিরে স্থানীয়দের সহানুভূতি তৈরি হলেও অপরাধ জগৎ থেকে সে সরে আসেনি। আশ্রমের আবাসিক হলেও বেশিরভাগ সময় সে ব্যান্ডেল স্টেশনেই থাকত।



