


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ক্রমশ ‘সিজার ডেলিভারি’র দিকে ঝুঁকছে আধুনিক সমাজ। অনেক পরিবার সরকারি হাসপাতালের উপর আস্থা না রেখে ভরসা করছে বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে গেলে স্বাভাবিক প্রসব না করে সিজারিয়ান সেকশন করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে স্ত্রীর স্বাভাবিক প্রসব করালেন হাবড়া ১ নম্বর ব্লকের বিএমওএইচ মিটন বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার সন্তানপ্রসব করেছেন এই স্বাস্থ্য আধিকারিকের স্ত্রী রিয়া বিশ্বাস বৈরাগী।
উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়া ১ নম্বর ব্লকের মছলন্দপুরে রয়েছে ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এখানে প্রতিদিন হাবড়া, গাইঘাটা, গোবরডাঙা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষ আসেন চিকিৎসা করাতে। রয়েছে উপযুক্ত চিকিৎসা কাঠামো। তবে অনেকেই সরকারি হাসপাতালের বদলে বেসরকারি হাসপাতাল কিংবা নার্সিংহোমে ডেলিভারি করানোর পক্ষপাতী। তাঁদের দাবি, সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসএনসিইউ নেই। এই তত্ত্বের একেবারে উল্টোপথে হেঁটে সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিজের স্ত্রীর স্বাভাবিক প্রসব করিয়ে সমাজকে বার্তা দিলেন এই বিএমওএইচ।
বৃহস্পতিবার স্ত্রী রিয়াদেবী প্রসব যন্ত্রণা অনুভব করলে তাঁকে তড়িঘড়ি মছলন্দপুর ব্লক প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে আসেন ডাঃ মিটন বিশ্বাস। এখানেই স্বাভাবিক প্রসব করেন রিয়াদেবী। তাঁদের পুত্রসন্তান হয়েছে। সদ্যোজাত ও মা দু’জনেই এখন সুস্থ। ডাঃ মিটন বিশ্বাস বলেন, অনেক পরিবারের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে যে, নরমাল ডেলিভারি হলে ঝুঁকি থাকে। সটান তাঁরা চলে যান সিজার করতে। এতে মহিলাদের ক্ষতি হয়। সেই জায়গায় মানুষের সচেতনতা বাড়াতে ও ভরসা দিতে আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এ নিয়ে উত্তর ২৪ পরগনা স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সমুদ্র সেনগুপ্ত বলেন, বিএমওএইচ-এর এই ভাবনায় স্বাস্থ্যদপ্তর খুশি। তাই, স্বাস্থ্যসচিব সদ্যোজাতের মায়ের জন্য শুভেচ্ছা সামগ্রী পাঠিয়েছেন।