মুম্বই: বিজেপি নেতাদের আপত্তির জের! বৃহন্মুম্বই পুরসভার (বিএমসি) সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সরানো হয়েছে অভিনেত্রী দিয়া মির্জার আতশবাজি বিরোধী ভিডিয়ো। অভিনেত্রীকে ‘দেশবিরোধী’ বলে কটাক্ষ করেছেন পুরসভার মেয়র ঋতু তাওড়ে স্বয়ং। যদিও ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এব্যাপারে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করল বম্বে হাইকোর্ট। ‘ভারত ধর্মনিরপেক্ষ দেশ’ উল্লেখ করে উচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ, ‘কোনো উৎসব বা তাকে কেন্দ্র করে চলা সচেতনতামূলক প্রচারে ধর্মীয় রং লাগানো উচিত নয়!’
‘দূষণহীন দীপাবলি পালন করুন। আতশবাজি বর্জন করে আলোর উৎসবে মেতে উঠুন।’— এমনই বার্তা দিয়ে ভিডিয়ো পোস্ট দিয়েছিলেন অভিনেত্রী দিয়া মির্জা। পুরসভার সোশ্যাল মিডিয়ায় তা শেয়ারও করা হয়। কিন্তু দীপাবলি নিয়ে সচেতনতা প্রচারে অভিনেত্রীকে সামিল করার সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। বিজেপির মুম্বই শাখার সভাপতি অমিত সাতম এবং মুম্বইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে এর বিরোধিতা করেন। দিয়া মির্জাকে ‘হিন্দুবিরোধী’ বলে আক্রমণ করা হয়। সোশ্যাল মিডিয়া থেকেও ভিডিয়োটি সরিয়ে দেয় বিএমসি। তাতেই আদালতের পরিবেশ সচেতনতার প্রচারের নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। বিরোধীরাও কটাক্ষ করে, দিয়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বলেই বিএমসি খড়্গহস্ত। এ প্রসঙ্গেই এবার বম্বে হাইকোর্টের বিচারপতি গিরীশ কুলকার্নি এবং বিচারপতি নীলা গোখলের ডিভিশন বেঞ্চ জানায়, দিয়া মির্জাকে নিশানা করে কয়েকজন রাজনীতিকের করা বিচ্ছিন্ন মন্তব্যে তাঁরা ‘বিচলিত’। আদালতের নির্দেশ মেনেই পরিবেশ ও জনসুরক্ষা নিয়ে সচেতনতা প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর বার্তার উদ্দেশ্য ছিল বায়ুদূষণ এবং জননিরাপত্তা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা। পরিবেশ সচেতনতার একটি প্রচার কীভাবে ধর্মীয় বিতর্কের বিষয় হয়ে উঠল? সুপ্রিম কোর্টের একটি পর্যবেক্ষণের উল্লেখ করে উচ্চ আদালত আরও জানায়, জাতি বা ধর্ম নির্বিশেষে সব সম্প্রদায়ের মানুষই দীপাবলি উদ্যাপন করেন। সেক্ষেত্রে ধর্মীয় কারণ দেখিয়ে দিয়া মির্জার অংশগ্রহণে আপত্তি জানানোর যুক্তি কী? বিষয়টিকে অন্য কোনো দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার চেষ্টা না করার জন্যও সতর্ক করেন বিচারপতিরা।
তবে বিষয়টিকে ‘ছোট্ট ঘটনা’ বলেই মন্তব্য করেছেন মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তাঁর কথায়, ‘মামলাটি তো হাইকোর্টে ওঠেনি। তাহলে পুরনিগমকে ভর্ৎসনা করার প্রশ্নই বা উঠছে কোথা থেকে? আমার মনে হয় না হাইকোর্ট বিএমসিকে ভর্ৎসনা করেছে। আদালত তার পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে মাত্র।’ ভিডিয়ো সরানো প্রসঙ্গে তাঁর দাবি, পুরসভার সোশ্যাল মিডিয়ায় কী থাকবে, তা সম্পূর্ণ ওদের সিদ্ধান্ত।



