Bartaman Logo
২২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অপরাজিতার পাপড়ি শুকিয়ে ‘ব্লু টি’, কৃষকদের বাড়তি রোজগারের নয়া দিশা, এ চায়ে ক্যাফিন নেই, ক্ষতি করে না, সুগার বাড়ায় না

চা প্রেমীদের জন্য ভিন্ন ধরনের স্বাদ উপভোগের সুযোগ। পাশাপাশি কৃষকদের বাড়তি রোজগারের উপায়।

অপরাজিতার পাপড়ি শুকিয়ে ‘ব্লু টি’, কৃষকদের বাড়তি রোজগারের নয়া দিশা, এ চায়ে ক্যাফিন নেই, ক্ষতি করে না, সুগার বাড়ায় না
  • ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: চা প্রেমীদের জন্য ভিন্ন ধরনের স্বাদ উপভোগের সুযোগ। পাশাপাশি কৃষকদের বাড়তি রোজগারের উপায়। নরেন্দ্রপুর কৃষি প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও স্টেট এগ্রিকালচারাল ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড এক্সটেনশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের অধ্যাপকরা অপরাজিতা ফুল শুকিয়ে বানিয়ে ফেলেছেন ‘ব্লু টি’। খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হল, এতে অন্য কোনো কিছু মেশানো হয় না। তাই এবার চিরাচরিত চায়ের পাতা নয়। সে জায়গা নিয়েছে অপরাজিতা ফুল। পাপড়ি থেকে খুব সহজ উপায়ে তা বানানোর টোটকা দিচ্ছেন প্রশিক্ষণকেন্দ্রের অধ্যাপকরা। তাঁদের বক্তব্য, অপরাজিতা ফুলের চাষ সংগঠিতভাবে হয় না। নীল চা পেতে এই ফুলের বাগান করে চাষ করতে হবে। তারপর উৎপাদিত ফুল থেকে চায়ের মতো পাতা বানিয়ে তা বাজারে বিক্রি করতে পারবেন কৃষকরা।

Advertisement

এই নীল চা দু’ভাবে তৈরি করা যায়। প্রথমটি হল একদম কৃত্রিম পদ্ধতিতে। পদ্ধতিটি হল এইরকম, ফুলগুলি একটি পাত্রে রেখে সেটি জাল দিয়ে ঢেকে রেখে দিতে হবে সূর্যের আলোর নীচে। ধুলোবালি বা পোকামাকড় যাতে না ঢুকতে পারে তার দিকে খেয়াল রাখতে হবে। পাঁচ থেকে সাতদিন দু’ঘণ্টা করে রাখলে ফুলের পাপড়ি যাবে শুকিয়ে। তারপর তা গুঁড়ো করে নিলেই তৈরি চায়ের মতো পাতা। এছাড়াও ল্যাবরেটরিতে হট এয়ার ওভেনে দু’দিন ৫০ থেকে ৬০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় ১৫ মিনিট করে শুকিয়ে নেওয়া যেতে পারে। তবে এই পদ্ধতিতে অনেক সময় ফুলের সুবাস কমে যায়। সূর্যের আলোয় তা হয় না।

এমনিতে বাজারে বিক্রি হয় ব্লু টি। তবে স্বাদ বাড়াতে তাতে অনেক রকমের রাসায়নিক ও অন্যান্য পদার্থ মেশানো হয়। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অধ্যাপকরা এই সাবধানবাণী দিচ্ছেন। তাঁরা যে পদ্ধতি অবলম্বন করছেন তাতে পাতার সঙ্গে কোনও কিছু মেশানো হয় না। ফলে পুরোটাই খাঁটি জিনিস। এই চা মধু দিয়ে পান করা যেতে পারে। এই পরীক্ষা করেছেন তিনজন অধ্যাপক। তাঁদের নাম সৌরেন্দ্রনাথ দাস, রানাপ্রতাপ চট্টরাজ এবং বিপ্লব পাল। নীল চায়ের গুণাগুণ সম্পর্কে তাঁরা জানান, এটি স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ডায়াবেটিক রোগীদের জন্য উপকারী। স্নায়ুরোগের ক্ষেত্রেও যথেষ্ট কার্যকরী। এই চায়ে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আছে। অফিসে সারাদিন বহু মানুষ চা বা কফি পান করেন। তাতে থাকা ক্যাফিন শরীরের জন্য ভালো নয়। অন্যদিকে অপরাজিতা ফুলের ব্লু টিতে সেরকম ঝুঁকি নেই। তাই এই উপকারিতা বোঝাতে বিভিন্ন জায়গায় প্রচার করতে চাইছে তিন অধ্যাপক। কৃষকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই চা বাড়িতে বানাতে পারবেন। তবে অবশ্যই বাগান তাঁদের করতে হবে। তা হলেই সুস্বাদু এবং উপকারী এবং ক্ষতিকারক নয় ব্লু টি মিলবে রোজ, কাপেগরম।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ