নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বালি পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জঞ্জাল সাফাইয়ের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারদের অধীনে কাজ করেছিলেন প্রায় ১৭০ জন কর্মী। আচমকাই ঠিকাদার সংস্থা নোটিস দিয়ে তাঁদের কাজ বন্ধের কথা জানিয়ে দিয়েছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ঠিকাদারের অধীনে থাকা অস্থায়ী সাফাই কর্মীরা। এদিকে, শহরের বিভিন্ন অংশে জঞ্জাল সাফাই না হওয়ায় চরম সমস্যায় পড়েছেন বালির বাসিন্দারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে পুর কর্তৃপক্ষ।
Advertisement
জানা গিয়েছে, ২০১০ সাল থেকে দুই ঠিকাদারের অধীনে শহরে জঞ্জাল থেকে নিকাশি নালা সাফাইয়ের কাজ করছিলেন প্রায় ১৭০ জন কর্মী। তাঁদের দাবি, মাসিক বেতন ছাড়াও পিএফ, ইএসআই সহ বিভিন্ন সুবিধা পেতেন তাঁরা। চলতি মাসের শুরুতেই ঠিকাদাররা নোটিস টাঙিয়ে দেন। তা দেখে কর্মীরা জানতে পারেন, ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বালি পুরসভা এলাকায় আর সাফাইয়ের দায়িত্বে এই সংস্থা থাকছে না। তাঁদের মৌখিকভাবে নাকি জানানো হয়েছে, পুরসভার অধীনে কাজ করতে হলে তাঁরা দৈনিক ৪০৪ টাকা করে মজুরি পাবেন। এরমধ্যে ২০২ টাকা সংশ্লিষ্ট কর্মীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে, বাকি ২০২ টাকা ঢুকবে তাঁর পরিবারের কোনও এক সদস্যের অ্যাকাউন্টে। তবে দৈনিক মজুরি বাদে অন্য কোনও সুযোগ সুবিধা তাঁরা পাবেন না। এতেই মাথায় হাত পড়েছে ওই সাফাই কর্মীদের। এদিন বালি ডাম্পিং গ্রাউন্ডে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। বিক্ষোভরত শ্রমিক শান্তনু সাহা, কিশোর দাস, প্রশান্ত কুমার হাজারিরা বলেন, ‘গত ১৫ বছর ধরে আমরা ঠিকাদারদের অধীনে কাজ করে এসেছি। করোনার সময়ও প্রতিদিন পরিষেবা দিয়েছি। এখন বলা হচ্ছে মজুরি বাদে আর অন্য কোনও সুবিধা মিলবে না। কীভাবে পরিবার চালাব, বুঝতে পারছি না।’
এদিকে গত দু’দিন ধরে বালি পুরসভার বিভিন্ন এলাকায় সাফাইয়ের কাজ ব্যাহত হওয়ায় সমস্যায় পড়েছেন নাগরিকরা। বিভিন্ন ওয়ার্ডে, স্কুলের সামনে জমছে আবর্জনা। যদিও পুরসভার সাফাই কর্মীরা নিয়মিত কাজ করছেন বলে জানা গিয়েছে। এ নিয়ে বালি পুরসভার তরফে জানানো হয়েছে, নাগরিক পরিষেবা কোথাও ব্যাহত হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আন্দোলনরত কর্মীরা পুরসভার অধীনস্থ নন। তবুও বিষয়টি খতিয়ে দেখে সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



