


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআরের প্রথম পর্বের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হতেই আতঙ্ক ছড়িয়েছে বিএলওদের মধ্যে। সংযোজনের তুলনায় বিয়োজনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এবং বিপুল সংখ্যক নাম বিচারাধীন তালিকায় থাকায় ভোটারদের ক্ষোভ বাড়ছে। এর প্রভাব সরাসরি পড়তে পারে বিএলওদের উপর। তাই তাঁরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। উপযুক্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন নির্বাচন দপ্তরের কাছে।
আমডাঙা বিধানসভায় খসড়া তালিকায় ২ লক্ষ ৪২ হাজার ৫৫ ভোটারের নাম ছিল। নতুন ভোটার ৪৬৮। বাদ পড়েছেন ৭ হাজার ৫৫৮। পাশাপাশি প্রায় ১১ হাজার নাম বিচারাধীন তালিকায় আছে। এই সংখ্যাটিই আতঙ্ক বাড়িয়েছে বিএলওদের। বিডিও অফিসে এসে ভোটার লিস্ট সংগ্রহের পর বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন তাঁদের অনেকে। যেমন আমডাঙার ৬৮ নম্বর বিএলও শেখ আবদুল নইম। তিনি চণ্ডীগড় প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। তালিকা সংগ্রহের পর আতঙ্কে বিডিও অফিসে বসেই নিরাপত্তার দাবি তোলেন। বলেন, ‘সন্দেহজনক ভোটারদের যে সব নথিপত্র দিতে বলা হয়েছিল তাঁদের অধিকাংশই তা জমা করেছেন। বৈধ কাগজপত্র থাকার পরও যদি চূড়ান্ত তালিকায় তাঁরা বিচারাধীন থাকেন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষোভ থাকবে তাঁদের। তাঁরা ক্ষোভ জানাতে আমাদের বাড়ি পর্যন্ত চলে আসতে পারেন।’ অন্যদিকে বারাসত ১ নন্বর বিডিও অফিসে তালিকা সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেদের ভবিষ্যত নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন প্রাথমিক শিক্ষিকা ফিরোজা খাতুন। তিনি দেগঙ্গা বিধানসভার ৬ নম্বর পার্টে গোপালপুরের বিএলও। এসআইআর চলাকালীন যে ভোটারদের নথি অসম্পূর্ণ ছিল তাঁদের একাংশ ফিরোজাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন। এখন তাঁর বুথের প্রায় ২০০ ভোটারের নাম বিচারাধীন। এবার তাঁরা চড়াও হতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন ফিরোজা। যদিও বিচারাধীন তালিকায় তাঁর ও তাঁর স্বামীর নামও রয়েছে। ফিরোজা বলেন, ‘কমিশনের নির্দেশ মেনে কাজ করে এই অবস্থা। আমার অনুরোধ, বিচারাধীন তালিকা ঠিকমতো বিচার করা হোক। বৈধ ভোটারদের নাম যেন বাদ না যায়।’
বারাসতের মহকুমাশাসক সোমা দাস বলেন, ‘বিএলওদের আতঙ্ক ও নিরাপত্তার দাবিটি এখনও সরকারিভাবে জানানো হয়নি। সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। দাবি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’