


নয়াদিল্লি: ফাঁকা বিমান। আসনে কোনো যাত্রী নেই। বদলে সেখানে রাখা রক্তমাখা স্কুল ব্যাগ, জুতো। সঙ্গে সাদা ফুল ও শিশুদের ছবি। পাকিস্তানে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা করতে যাওয়ার পথে এভাবেই মিনাবে নিহত স্কুলছাত্রীদের শ্রদ্ধা জানাল ইরান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধের প্রথম দিনেই মিনাবের ওই স্কুলে ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালায় আমেরিকা ও ইজরায়েল। তাতে প্রাণ হারায় ১৬০ জনের বেশি ছাত্রী। যাদের বেশিরভাগই শিশু। শনিবার ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মহম্মদ বাঘের ঘালিবাফের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে পৌঁছায়। ওই বিমানেই মৃত ছাত্রীদের ব্যবহৃত ব্যাগ, জুতো রেখে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এক্স হ্যান্ডলে সেই ছবি শেয়ার করে ঘালিবাফ লিখেছেন, ‘এই বিমানে আমার সঙ্গীরা #মিনাব১৬৮’। আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলায় মিনাবে ১৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলেই বার্তা দিয়েছেন তিনি। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, নিহত শিশুদের ছবির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছেন ঘালিবাফ। এছাড়া ইরানের যে প্রতিনিধিদলটি যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে গিয়েছে, সেটিরও নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিনাব১৬৮’। দক্ষিণ আফ্রিকার ইরান দূতাবাস ঘালিবাফের পোস্টটি শেয়ার করে লিখেছে, ‘মিনাবের শিশুদের কথা আমরা কোনোদিনও ভুলব না।’
ইরান বারবারই মিনাবের হামলাকে ‘ঠান্ডা মাথার খুন’ ও ‘মানবতা বিরোধী অপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে। এর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকেই দায়ী করেছে তারা। যুদ্ধের প্রথমদিন কোনো সতর্কবার্তা না দিয়ে কেন এতজন নিরপরাধ শিশুকে টার্গেট করা হল, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও প্রশ্নের মুখে পড়ে আমেরিকা ও ইজরায়েল। বিষয়টি নিয়ে রাষ্ট্রসংঘেও সরব হয়েছিলেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। যদিও ইরানের দাবি আগেই খারিজ করে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার দাবি, ইরান ইচ্ছাকৃতভাবে স্কুলে হামলা চালিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বৈঠকের আগে এই হামলার স্মৃতি উসকে দিয়ে আমেরিকাকে চাপে রাখতে চায় তেহরান।