Bartaman Logo
৩ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পার্ক সার্কাসে অবরোধ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, পালটা লাঠিচার্জ করল বাহিনী

‘শহরের কোনো রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না।’ দায়িত্ব নিয়েই এই ঘোষণা ও বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিজেপি সরকার। একইসঙ্গে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে পশুহত্যা চলবে না।

পার্ক সার্কাসে অবরোধ, পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর, পালটা লাঠিচার্জ করল বাহিনী
  • ১৮ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘শহরের কোনো রাস্তায় নামাজ পড়া যাবে না।’ দায়িত্ব নিয়েই এই ঘোষণা ও বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে বিজেপি সরকার। একইসঙ্গে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে পশুহত্যা চলবে না। এমনটা হলে তা আইনত ‘অপরাধ’ হিসাবেই গণ্য করা হবে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। ওই বিজ্ঞপ্তির প্রতিবাদে রবিবার দুপুরে পার্ক সার্কাস মোড়ে বিক্ষোভ শুরু হয়। পথ অবরোধ করেন সংখ্যালঘু মানুষের একাংশ। পুরুষ, মহিলা নির্বিশেষে সেই প্রতিবাদ, অবরোধে যোগ দেন। পুলিশ অবরোধ সরানোর চেষ্টা করলে উর্দিধারীদের উপর চড়াও হন বিক্ষোভকারীরা। পুলিশকে আক্রমণ করেন তাঁরা। ভাঙচুর চালানো হয় পুলিশের একাধিক গাড়িতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয় কলকাতা পুলিশ। এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

Advertisement

অতীতে রেড রোড সহ শহরের বিভিন্ন রাস্তা বন্ধ করে নামাজ পড়ার প্রবণতা তৈরি হয়। কিন্তু, মসনদে বসেই সেই প্রবণতা বন্ধ করতে বিজ্ঞপ্তি জারি করেন মুখ্যমন্ত্রী। ইদুজ্জোহা উপলক্ষ্যে একবালপুর, মোমিনপুর, তপসিয়া, ট্যাংরা, তিলজলা, মেটিয়াবুরুজ, গার্ডেনরিচ ইত্যাদি জায়গায় রাস্তার উপর প্রকাশ্যেই চলে পশু জবাই। তা বন্ধ করতে নির্দেশ দিয়েছে সরকার। তারই প্রতিবাদে এদিন পার্ক সার্কাসে প্রায় শ’ তিনেক মানুষ জমায়েত করেন। রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ। বেশ কিছুক্ষণ পর প্রতিবাদীদের সরাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি হয় বিক্ষোভকারীদের। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আচমকা পুলিশের উপর শুরু হয় ইটবৃষ্টি। ইটের আঘাতে জখম হন কলকাতা পুলিশের তিনজন কর্মী। কলকাতা পুলিশের তিনটি গাড়িতে ভাঙচুর চালায় বিক্ষোভকারীরা। ভেঙে দেওয়া হয় বনেটের কাচ।
এরপরেই ‘অ্যাকশন’-এ নামে কলকাতা পুলিশ। ঘটনাস্থলে আসে লালবাজারের বিরাট ফোর্স। কড়েয়া, তপসিয়া, এন্টালি সহ বিভিন্ন থানার আধিকারিকরাও সেখানে যান। সাউথ-ইস্ট ডিভিশনের রিজার্ভ ফোর্স লাঠি হাতে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তাদের নির্দেশে শুরু হয় লাঠিচার্জ। জুতো, ব্যাগ, ফেলেই চম্পট দেন অবরোধকারীরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চলে আসেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরাও। সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘এরিয়া ডমিনেশন’ চালান তাঁরা। কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার অশেষ বিশ্বাস বলেন, ‘পুলিশের উপর বিক্ষোভকারীরা আক্রমণ চালিয়েছে। আমাদের তিনটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। এই ঘটনায় যারা জড়িত, তাঁদের কাউকে ছাড়া হবে না। সবার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ হবে।’ লালবাজার সূত্রে খবর, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান, সরকারি কর্মীর গায়ে হাত দেওয়া সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু হতে পারে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ