Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে ঢাকা হাইকোর্টে মামলা, ‘ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠন’ মন্তব্য ইউনুস সরকারের

বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে ঢাকা হাইকোর্টে মামলা, ‘ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠন’ মন্তব্য ইউনুস সরকারের
  • ২৭ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
ঢাকা, ২৭ নভেম্বর: অশান্ত বাংলাদেশ। এবার ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে সে দেশের হাইকোর্টে দায়ের হল মামলা। আজ, বুধবার এই মামলার শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা হাইকোর্ট। গত সোমবার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের পর থেকেই পরিস্থিতি খারপ হতে শুরু করে। সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী ইসকনের অন্যতম সংগঠক ও পুণ্ডারীক ধামের অধ্যক্ষ। তাঁর এই গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে বাংলাদেশের দিকে দিকে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ‘সংখ্যালঘু’ হিন্দুরা।
Advertisement
বুধবার বাংলাদেশে ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। ওই মামলার শুনানির সময়ে আদালত অ্যাটর্নি জেনারেল মহম্মদ আসাদুজ্জামানের কাছে ইসকন এবং বাংলাদেশে এর প্রতিষ্ঠা সম্পর্কে জানতে চান। সূত্রের খবর, ওই প্রশ্নের উত্তরেই আসাদুজ্জামান মন্তব্য করেন, ইসকন কোনও রাজনৈতিক দল নয়। এটি একটি ‘ধর্মীয় মৌলবাদী সংগঠন’। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে ইসকন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি বাংলাদেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলার যাতে কোনওভাবে অবনতি না হয়, সে দিকেও সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তা হলে কি এবার বাংলাদেশে নিষিদ্ধ হওয়ার পথে ইসকন? এই আশঙ্কাই এখন দানা বাঁধতে শুরু করেছে।    
সংখ্যালঘু নির্যাতনে একাধিকবার সংবাদ শিরোনামে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া নিয়ে পথে নামছেন হিন্দুরা। সেই আন্দোলনের প্রধান মুখ সন্ন্যাসী চিন্ময়কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করে মহম্মদ ইউনুসের পুলিস। তাঁর জামিন মঞ্জুর করেনি চট্টগ্রাম আদালত। সন্ন্যাসীর মুক্তির দাবিতে রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে আদালত চত্বর। বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠনের তরফে এই গ্রেপ্তারির নিন্দা করা হয়েছে। উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে ইসকনের তরফেও। এরপরই রাজধানী ঢাকা, চট্টোগ্রাম সহ একাধিক এলাকায় প্রতিবাদে সরব হন হিন্দুরা।
মঙ্গলবার ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, “চিন্ময়কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার ও তাঁর জামিন খারিজ করে দেওয়ার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের। হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। মন্দিরে চুরি, বিগ্রহ ভাঙচুর, সংখ্যালঘুদের বাড়ি-দোকানে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রচুর প্রমাণ রয়েছে। এই সব ঘটনায় জড়িতরা বহাল তবিয়তে। একজন ধর্মীয় নেতা, যিনি ন্যায্য দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করছিলেন, তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাঁরা এই গ্রেপ্তারির শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করছেন, তাঁদের উপর হামলা হচ্ছে। দুর্ভাগ্যজনক।”
মঙ্গলবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তায় চিন্ময়কৃষ্ণকে আনা হয় চট্টগ্রাম মহানগর আদালতে। কয়েক হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়েছিলেন। এজলাসেও চিন্ময়কৃষ্ণের হয়ে স্লোগান দেন আইনজীবীরা। পুলিস তাঁকে হেফাজতে নিতে চায়নি। শুনানি শেষে জামিনের আর্জি নাকচ করে সন্ন্যাসীর জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। তবে তিনি এ-ও জানান, চিন্ময়কৃষ্ণের ধর্মীয় অধিকার সুরক্ষিত রাখতে হবে। তাতেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। প্রিজন ভ্যান ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ। তিন ঘণ্টা ধরে বিক্ষোভ চলার পর নির্বিচারে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিস। ফাটানো হয় কাঁদানে গ্যাসের শেল, সাউন্ড গ্রেনেড। সংঘর্ষ চলাকালীন এক সরকারি আইনজীবীকে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে বলে অভিযোগ। মৃতের নাম সাইফুল ইসলাম আলিফ। আহত হয়েছেন আরও ২০ জন আইনজীবী। রাতেও ঢাকা ও চট্টগ্রামে হিন্দুদের উপর হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রিজন ভ্যানে বসে চিন্ময়কৃষ্ণ বলেন, “আমরা রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে নই। আট দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”  চিন্ময়কৃষ্ণের গ্রেপ্তারি নিয়ে প্রতিবাদে সরব হয়েছে বাংলাদেশ ইসকন।
সম্পর্কিত সংবাদ