Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

বাংলাদেশে হিন্দু জনপ্রতিনিধিকে গণধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে খুন

বাংলাদেশে হিন্দু জনপ্রতিনিধিকে গণধর্ষণের পর মুখে বিষ ঢেলে খুন
  • ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
খুলনা: মহম্মদ ইউনুসের বাংলাদেশে কি আর হিন্দু জনপ্রতিনিধিরাও নিরাপদ নন? এক মহিলা ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গণধর্ষণের পর বিষ খাইয়ে খুনের অভিযোগের উঠল। ৫২ বছর বয়সি ওই মহিলা খুলনার নড়াইলের পোড়াডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। মঙ্গলবার কাজ সেরে ফেরার পথে তাঁকে গণধর্ষণ করার পর বিষ খাওয়ানো হয় বলে পরিবারের অভিযোগ। যশোর হাসপাতালে দু’দিন চিকিত্সাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার রাতে মারা যান ওই মহিলা জনপ্রতিনিধি। ময়নাতদন্তের পর শুক্রবার সন্ধ্যায় তাঁর দেহ নড়াইলের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। তারপরেই বিষয়টি নিয়ে হইচই শুরু হয়। পুলিসের দাবি, এই ঘটনায় দৌলতপুরের বাসিন্দা ফারুক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে মাগুরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজিবুল নামে অন্য এক অভিযুক্ত এখনও পলাতক। 
Advertisement
অন্যদিকে, কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বারে ফের এক হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার রাতে ছুরি ও লাঠি নিয়ে হামলা চালায় কয়েকজন। পরে স্থানীয় বিএনপি নেতারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। মন্দির ও বাড়িতে ভাঙচুর, বাধা দিলে মারধর বা খুন-‘বৈষম্যহীন’ বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন কার্যত ‘সাধারণ ঘটনা’ দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজের শীর্ষপদে থাকা হিন্দুদের ইস্তফা দিতে বাধ্য করার ঘটনাও দেখা গিয়েছে। হিন্দু নির্যাতনের বিষয়টি তত্ত্বাবধায়ক সরকার বারবার উড়িয়ে দিতে চেয়েছে। সবটাই ভারতের অপপ্রচার বলেও দাবি করেছে তারা। কিন্তু মহিলা জনপ্রতিনিধিকে গণধর্ষণ করে খুনের পর বাংলাদেশে হিন্দুদের পরিস্থিতি নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, ২৪ ডিসেম্বর রেশনের পণ্য বিলি করতে মাইজপাড়া ইউনিয়ন পরিষদে গিয়েছিলেন ওই মহিলা জনপ্রতিনিধি। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার সময় অভিযুক্ত রাজিবুল তাঁকে পাওনা ১০ হাজার টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ফোনে ডেকে পাঠান। নির্যাতিতা সেখানে গেলে রাজিবুল, ফারুক ও আরও কয়েকজন মিলে তাঁকে গণধর্ষণ করে। এরপর মহিলার থেকে ২ লক্ষ টাকাও দাবি করে অভিযুক্তরা। নির্যাতিতা সবাইকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে তাঁর মুখে বিষ ঢেলে দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পর ভয়ে ওই মহিলা কাউকে কিছু বলেননি। কিন্তু রাতে বমি করতে শুরু করেন। পরে তিনি আরও অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে ছেলেকে পুরো ঘটনার কথা জানান ওই মহিলা। মৃতার ছেলে বলেন, ‘আমার মায়ের সঙ্গে যারা এসব করছে, আমি তাদের বিচার চাই।’ কান্নায় ভেঙে পড়েছেন নির্যাতিতার ৮০ বছর বয়সি মা।
সম্পর্কিত সংবাদ